Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আকসাই চিন ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত একটি মানচিত্র ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক জল্পনা (Pakistan Protested)। সূত্রের খবর, মাত্র চার দিনের মধ্যেই সেই মানচিত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্দরমহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
প্রকাশ্যে এল ‘সম্পূর্ণ ভারত’ মানচিত্র (Pakistan Protested)
গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত যৌথ বিবৃতির পর মার্কিন প্রশাসনের তরফে বিশেষ করে ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের দফতর থেকে একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অতীতে আমেরিকার সরকারি মানচিত্রে সাধারণত পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও আকসাই চিনকে বিতর্কিত অঞ্চল বা ভারতের বাইরে হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে এই নতুন মানচিত্রকে দিল্লির কূটনৈতিক মহল বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছিল।
দিল্লির দীর্ঘদিনের অবস্থান (Pakistan Protested)
ভারত সরকার বহুবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর এবং আকসাই চিন ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন মানচিত্রে সম্পূর্ণ ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রতিফলনকে নয়াদিল্লির নীতিগত অবস্থানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছিল। সূত্রের খবর, কূটনৈতিক মহলে এটিকে একটি ‘সাইলেন্ট শিফট’ বা নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

পাকিস্তানের আপত্তি ও দ্রুত পদক্ষেপ (Pakistan Protested)
তবে প্রকাশের চার দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি দাবি করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মানচিত্রটি দেখার পরই ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে যে মানচিত্রে ‘ত্রুটি’ রয়েছে। সূত্রের খবর, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘের ওয়েবসাইটে থাকা মানচিত্রের উল্লেখ করে সেটিকেই ‘সঠিক’ বলে দাবি করে। এরপরই মার্কিন প্রশাসন মানচিত্রটি সংশোধন বা সরিয়ে নেয়। ইসলামাবাদ এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানানো হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক ভারসাম্য? (Pakistan Protested)
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকা বরাবরই কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে এসেছে। ফলে ভারতের পক্ষে দৃশ্যত অবস্থান নেওয়ার পর দ্রুত পিছু হটা সেই পুরনো কৌশলেরই প্রতিফলন হতে পারে। অন্যদিকে, কিছু মহলের দাবি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের কূটনৈতিক প্রয়োজনে এই সংশোধন করা হয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান, সন্ত্রাসদমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ইসলামাবাদের গুরুত্ব এখনও পুরোপুরি কমেনি।
দিল্লির প্রতিক্রিয়া কী? (Pakistan Protested)
এই ঘটনার পর নয়াদিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া না এলেও কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি নোট করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হতে পারে। ভারতের অবস্থান বরাবরই এক পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ও আকসাই চিন ভারতের অংশ। সেই অবস্থানে কোনও পরিবর্তন নেই।

আরও পড়ুন: America: মার্কিন পুলিশের গাড়ির ধাক্কা ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু
কূটনৈতিক বার্তা কী?
এই ঘটনাকে অনেকেই দক্ষিণ এশিয়ার সূক্ষ্ম কূটনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন। মানচিত্র কেবল ভৌগোলিক চিত্র নয়, তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীকও বটে। সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক মহলে এখনও জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ‘বিতর্কিত অঞ্চল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনও দেশের সরকারি মানচিত্রে সম্পূর্ণ ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রতিফলন তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।



