Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শিবলিঙ্গে জল অর্পণ অনেকের (Maha Shivaratri) কাছে একটি প্রচলিত আচার হলেও, হিন্দু দর্শনে এটি গভীর তত্ত্বসমৃদ্ধ সাধনার অংশ। এই আচারকে বলা হয় ‘অভিষেক’। বৈদিক সাহিত্যে, বিশেষ করে ঋগ্বেদ ও যজুর্বেদের রুদ্রস্তোত্রে শিবতত্ত্বের যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, তাতে মন্ত্রোচ্চারণসহ আরাধনার বিশেষ গুরুত্ব উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, বিশেষত মহাশিবরাত্রির পবিত্র রাত্রিতে ভক্তিভরে অভিষেক করলে তার ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
পঞ্চাক্ষর মন্ত্র (Maha Shivaratri)
সবচেয়ে পরিচিত মন্ত্র “ওঁ নমঃ শিবায়”-যা পঞ্চাক্ষর (Maha Shivaratri) মন্ত্র নামে খ্যাত। এই পাঁচ অক্ষরের মধ্যে নিহিত রয়েছে পাঁচভূতের (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুত, ব্যোম) প্রতীকী তাৎপর্য। নিয়মিত জপে মানসিক স্থিরতা, অহংবোধ হ্রাস এবং আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটে বলে শাস্ত্রীয় মত। অনেক গুরুজন পরামর্শ দেন, ১০৮ বার জপ করে ধীরে ধীরে শিবলিঙ্গে জল নিবেদন করলে তা বিশেষভাবে কল্যাণকর।

মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র (Maha Shivaratri)
এছাড়া মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রও অত্যন্ত শক্তিশালী বলে বিবেচিত-“ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে…”
এই মন্ত্র দীর্ঘায়ু, আরোগ্য এবং ভয়মুক্তির প্রার্থনায় ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদ ও তন্ত্রশাস্ত্রেও এর উল্লেখ আছে। অনেক ভক্ত দুধ, গঙ্গাজল, মধু বা বিল্বপত্র সহযোগে অভিষেক করেন।

আরও পড়ুন: India: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী! ২৮৮টি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন
নিয়ম মানা গুরুত্বপূর্ণ
অভিষেকের সময় কিছু নিয়ম মানা গুরুত্বপূর্ণ। ডান হাতে ধীরগতিতে জল ঢালতে হয়, যাতে তা অবিচ্ছিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়। হঠাৎ করে জল ফেলে দেওয়া অনুচিত। সূর্যোদয়ের পূর্বে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরে একাগ্রচিত্তে মন্ত্রজপ করাই শ্রেয়। শিবপুরাণে বলা হয়েছে, ভক্তি ও আন্তরিকতাই মূল-আড়ম্বর নয়। “ওঁ শম্ভবায় নমঃ”, “ওঁ মহাদেবায় নমঃ” কিংবা “ওঁ রুদ্রায় নমঃ”-এই মন্ত্রগুলিও প্রচলিত। তবে কেবল উচ্চারণ নয়, মন্ত্রের ভাবার্থ হৃদয়ে ধারণ করাই আসল সাধনা। কারণ শিব আরাধনা মানে অন্তরের অন্ধকার দূর করে চেতনার জাগরণ।


