Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বৈধ শংসাপত্র ছাড়াই যাত্রীবাহী (Air India) বিমান পরিচালনার গুরুতর অভিযোগে এক কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হচ্ছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন Air India-কে। দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এটি কেবল প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নয়, বরং নিরাপত্তা সংস্কৃতির ঘাটতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। DGCA-র তদন্তে উঠে এসেছে, গত বছরের ২৪ ও ২৫ নভেম্বর একটি এয়ারবাস A320 বিমান বাধ্যতামূলক এয়ারওয়ার্থিনেস রিভিউ সার্টিফিকেট (ARC) ছাড়াই বাণিজ্যিক উড়ান পরিচালনা করে। ওই দুই দিনে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, মুম্বই ও হায়দরাবাদের মধ্যে মোট আটবার উড়ে বিমানটি।
মান যাচাইয়ের পর ARC প্রদান (Air India)
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর বিমানটির কাঠামোগত (Air India) অখণ্ডতা, যান্ত্রিক সক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ নথি ও সুরক্ষা মান যাচাইয়ের পর ARC প্রদান করা হয়। এই শংসাপত্র ছাড়া কোনও বিমান বাণিজ্যিক পরিষেবায় ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়। অথচ সেই বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই একাধিক উড়ান পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া নিজস্ব তদন্ত শুরু করে। সেই রিপোর্টে একাধিক ‘সিস্টেমিক ফেলিওর’-এর কথা স্বীকার করা হয়েছে।তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে নির্ধারিত ডকুমেন্টেশন যাচাই প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ছিল, উড়ানের আগে চূড়ান্ত টেকনিক্যাল ক্লিয়ারেন্স যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল।

পাইলটদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে (Air India)
পাইলটদের ভূমিকাও প্রশ্নের (Air India) মুখে পড়েছে। তদন্তে বলা হয়েছে, উড়ানের আগে বাধ্যতামূলক চেকলিস্ট সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করা হয়নি। যদিও সংস্থা দাবি করেছে, বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত প্রশাসনিক ত্রুটির ফল, তবুও নিরাপত্তা মানদণ্ডে শৈথিল্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট। গত ৫ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া নির্দেশে DGCA-র যুগ্ম মহাপরিচালক মণীশ কুমার সংস্থার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনকে চিঠি দিয়ে জানান, এই ঘটনা সংস্থার নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের ত্রুটি যাত্রীদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং সাধারণ মানুষের আস্থায় বড় ধাক্কা দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক কোটি টাকার জরিমানা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
কড়া নজরদারি (Air India)
এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন সংস্থাটি আগেই কড়া (Air India) নজরদারির মধ্যে রয়েছে। গত জুন মাসে আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি বোয়িং ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক কালে সেটিই ছিল দেশের অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। এই ঘটনার পর থেকেই সংস্থার রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তদন্ত ঘিরে নতুন জল্পনা
এর মধ্যেই AI-171 দুর্ঘটনার তদন্ত ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে Aircraft Accident Investigation Bureau। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি হয়নি। পাইলটের “ইচ্ছাকৃত কাজ”-এর যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তা “ভুল ও কল্পনাপ্রসূত” বলে খারিজ করা হয়েছে। AAIB আরও জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হয়েছে বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো গেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ফলে জল্পনার বদলে অফিসিয়াল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা।
আরও পড়ুন: Bomb Threat Kolkata: উড়ানের আগে শৌচাগারে ‘বোমা’ বার্তা, যাত্রী নামিয়ে তল্লাশি!
উল্লেখ্য, টাটা গোষ্ঠী ও Singapore Airlines-এর যৌথ মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি জরুরি সরঞ্জাম সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও একাধিক ত্রুটির জন্য সতর্কবার্তা পেয়েছে। সব মিলিয়ে, একের পর এক ঘটনায় সংস্থার নিরাপত্তা সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। বিমান চলাচলের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সামান্য গাফিলতিও যে কতটা বড় বিপদের কারণ হতে পারে—এই ঘটনাই তার নতুন উদাহরণ বলে মনে করছে বিমান মহল।


