Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম বর্ধমানের সদর শহর আসানসোল আজ এক অদৃশ্য কিন্তু প্রবল সংকটে জর্জরিত যানজট (Huge Traffic)। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এই শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কাজ, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। কিন্তু নিত্যদিনের এই যাতায়াত এখন পরিণত হয়েছে এক দুঃসহ অভিজ্ঞতায়। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় সড়ক জিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই অবরোধ, যা শহরের স্বাভাবিক ছন্দ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেয়।

দাবি বনাম প্রশাসন (Huge Traffic)
শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ হটন রোডের চৌমাথায় শতাধিক কংগ্রেস কর্মী রাস্তার উপর বসে পড়েন। ফলে জিটি রোড ও হাসপাতাল রোডে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, সাধারণ মানুষ পড়েন চরম বিপাকে। অবরোধ তুলতে এলে পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। পুলিশ জানায়, এই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের কেন্দ্রে কী? (Huge Traffic)
কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতন্ডির অভিযোগ, শহরের বহু রাস্তায় অবৈধ দখলদারি চলছে। ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ জুড়ে দোকান বসানো হয়েছে। পাশাপাশি যেখানে সেখানে অটো ও টোটোর স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় যান চলাচল আরও ব্যাহত হচ্ছে। হটন রোড, রাহা লেন, গির্জা মোড়, স্টেশন রোড প্রতিদিনই এইসব এলাকায় তীব্র যানজটের ছবি দেখা যায়। অফিস টাইমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, যানজটে আটকে পড়ছে অ্যাম্বুল্যান্সও। হাসপাতালে যাওয়ার পথে রোগীদের গাড়ি থেমে থাকছে দীর্ঘক্ষণ। এতে জনস্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

সমাধানের পথ কি সেখানেই? (Huge Traffic)
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি টোটো ও অটোর জন্য নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড চিহ্নিত করা হোক। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল ব্যবস্থা চালু করা গেলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে তাঁদের মত। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলিতে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। পরিকল্পনাহীন অটো-টোটো চলাচল, রাস্তার দখলদারি ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এই তিনটি বিষয়ই শহুরে যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নাগরিক দুর্ভোগ ও প্রশাসনিক দায় (Huge Traffic)
যানজট কেবল সময় নষ্ট করে না, এটি অর্থনৈতিক ক্ষতিও ডেকে আনে। ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন না, অফিসযাত্রীরা দেরিতে পৌঁছন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসতে সমস্যায় পড়েন। দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকলে মানসিক চাপ ও দূষণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে। প্রশাসনের দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা নয়, শহরের চলাচল ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা। নাগরিকদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হলে তা ক্ষোভে রূপ নেয়, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচিতে।

আরও পড়ুন: Menstrual Cycle Delay: মাসিক দেরি মানেই কি বিপদ? কী বলছেন চিকিৎসকরা?
সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন
আসানসোলের যানজট সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন, নির্দিষ্ট অটো ও টোটো রুট নির্ধারণ, অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল ও নজরদারি ব্যবস্থা, বিকল্প রাস্তা ও পার্কিং জোন তৈরি, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি বা পুলিশি ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন প্রশাসন, পরিবহণ দফতর, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের যৌথ উদ্যোগ।



