Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US-Iran)। ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক হুঁশিয়ারি পরমাণু প্রকল্পে লাগাম না টানলে কঠোর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের সুরে খানিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তবেই তারা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আপসের পথে হাঁটতে রাজি। এই অবস্থান বদলের পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ, যা শুধু দুই দেশের দ্বন্দ্বেই সীমাবদ্ধ নয় বরং গোটা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতাবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

‘বল আমেরিকার কোর্টে’ (US-Iran)
ইরানের ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আপাতত সিদ্ধান্তের ভার ওয়াশিংটনের উপরই। তাঁর কথায়, আমেরিকা যদি আন্তরিকভাবে উত্তেজনা কমাতে চায়, তবে আগে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে। ইরানের অর্থনীতি বহু বছর ধরেই মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে জর্জরিত। তেল রফতানিতে বাধা, আন্তর্জাতিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সব মিলিয়ে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি টালমাটাল। ফলে তেহরানের এই বার্তা মূলত এক কৌশলগত প্রস্তাব: অর্থনৈতিক স্বস্তির বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান (US-Iran)
ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন বরাবরই ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছে। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র আসুক, তা আমেরিকা কখনওই মেনে নেবে না। ওয়াশিংটনের যুক্তি ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তবে পশ্চিম এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। এতে শুধু Israel নয়, উপসাগরীয় দেশগুলিও নিজেদের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন করে অস্ত্রভাণ্ডার সাজাতে পারে। ফলত আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। তবে রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক পথেই সমস্যার সমাধান চান। অর্থাৎ সামরিক হুমকি থাকলেও দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি আলোচনার।
সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক প্রভাব (US-Iran)
ইরানের পরমাণু প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। নৌবহর মোতায়েন, বিমানঘাঁটির কার্যক্রম বৃদ্ধি সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বারবার যুদ্ধের প্রান্তসীমায় পৌঁছেছে। গত বছর ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার অভিযোগ সামনে আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। এই সংঘাত প্রমাণ করে, পরমাণু ইস্যুটি কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়; এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্ন। ইরান নিজেকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে দেখালেও আমেরিকা ও তার মিত্ররা বিষয়টিকে আক্রমণাত্মক সক্ষমতার সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করছে।

আরও পড়ুন: Menstrual Cycle Delay: মাসিক দেরি মানেই কি বিপদ? কী বলছেন চিকিৎসকরা?
নতুন চুক্তির পথ?
দু’দেশ ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছে। যদিও এখনও কোনও সমঝোতা হয়নি, তবু উভয় পক্ষের বক্তব্যে আলোচনার ইঙ্গিত রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, আর আমেরিকার পক্ষ থেকে পরমাণু কর্মসূচিতে কঠোর নজরদারির শর্ত এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটলে নতুন করে কোনও চুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য সমঝোতায় কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা সীমিত রাখা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, এমন কোনও সমঝোতা হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কই স্বাভাবিক করবে না, বরং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাও কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।



