Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার উপকণ্ঠে দ্রুত বিকাশমান পরিকল্পিত শহর নিউ টাউন যেখানে আধুনিক অবকাঠামো (New Town), উঁচুমানের আবাসন এবং উন্নত নাগরিক পরিষেবার জন্য পরিচিত সেই এলাকাতেই এবার সামনে এল এক চরম জনস্বাস্থ্য সংকটের ছবি। অভিযোগ, নিউ টাউনের এক অভিজাত আবাসনের ই-ব্লকের তিনশোরও বেশি বাসিন্দা গত তিন সপ্তাহ ধরে ডায়ারিয়া, পেটব্যথা, বমি ও উচ্চ জ্বরে ভুগছেন। বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে আবাসনের ৫২২ জন বাসিন্দার মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে আধুনিক নগর পরিকল্পনার শহরেও কি নিরাপদ পানীয় জলের নিশ্চয়তা নেই?

ফ্ল্যাটেই অসুস্থ কেউ না কেউ (New Town)
বাসিন্দাদের দাবি, ই-ব্লকের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই অন্তত একজন করে অসুস্থ। অনেক পরিবারে একাধিক সদস্য ডায়ারিয়া ও পেটের সংক্রমণে আক্রান্ত। এক বাসিন্দার কথায়, “আমার দুই মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন দূষিত জলের কারণেই এই সংক্রমণ। কল খুললেই হলুদ, দুর্গন্ধযুক্ত জল বেরোচ্ছে।” অন্য এক বাসিন্দার অভিযোগ, “এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিটি বিল্ডিংয়েই কেউ না কেউ অসুস্থ। আমরা তিনজনই ডায়ারিয়া ও পেটের অসুখে ভুগছি। নিশ্চয়ই জলের মধ্যে সমস্যা আছে।” এই ধারাবাহিক অসুস্থতার ঘটনায় বাসিন্দারা ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং আবাসনের ফেসিলিটি ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পরে তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেন টেকনো সিটি থানা -এ।
ওভারহেড ট্যাঙ্ক রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি? (New Town)
বাসিন্দাদের মূল অভিযোগ, আবাসনের ওভারহেড ট্যাঙ্কের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা, নিয়মিত ক্লোরিনেশন বা জীবাণুমুক্তকরণের অভাব এসব কারণেই জল দূষিত হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। তাঁদের দাবি, একাধিকবার আবাসন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো এতজন অসুস্থ হতেন না। এখানেই উঠে আসে একটি বড় প্রশ্ন নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে বেসরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত?

পুলিশি হস্তক্ষেপ ও তদন্ত (New Town)
অভিযোগ পাওয়ার পর টেকনো সিটি থানা-এর পুলিশ আবাসনে গিয়ে পরিদর্শন করে এবং ফেসিলিটি ম্যানেজমেন্টকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এদিকে, এত বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে তৎপর হয়েছে নিউটাউন কলকাতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনকেডিএ) । সূত্রের খবর, সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে জলের গুণমান পরীক্ষা করা হয় এবং গত সপ্তাহ পর্যন্ত রিপোর্টে কোনও দূষণের প্রমাণ মেলেনি। তবে নতুন করে অভিযোগ পাওয়ার পর আবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “দেখা হবে সমস্যা সরবরাহকৃত জলে, নাকি সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ত্রুটিতে।”
আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
বড় প্রশ্নের মুখে নিউ টাউন
এই ঘটনা কেবল একটি আবাসনের সীমাবদ্ধ সমস্যা নয়; এটি নগর জীবনের মৌলিক নিরাপত্তা বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। আধুনিক আবাসনে উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট কিনে বাসিন্দারা যে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের প্রত্যাশা করেন, তা যদি ব্যর্থ হয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ডায়ারিয়া বা জলবাহিত রোগ সাধারণত দূষিত জল বা খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়। দ্রুত চিকিৎসা না হলে তা শিশু ও বয়স্কদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। ফলে এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে, জলের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ, ওভারহেড ট্যাঙ্ক পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্তকরণ, বিকল্প বিশুদ্ধ জলের ব্যবস্থা, এবং স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারি জরুরি।



