Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফের পাকিস্তানের মাটিতে রহস্যময় ‘টার্গেটেড অপারেশন’ (Pakistan)! গুলিতে নিহত ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা মহম্মদ কাশিম গুজ্জর ওরফে সুলেমান ওরফে সলমন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পেশোয়ার শহরের উপকণ্ঠে ১৪ তারিখ রাতে বাইক আরোহী বন্দুকবাজদের হামলায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
পেশোয়ারে গুলির শব্দ (Pakistan)
সূত্রের খবর, ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো এসেছে, ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, একটি মোটরবাইকে এক ব্যক্তি ফাঁকা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক সেই সময় পিছন থেকে আরেকটি বাইক দ্রুতগতিতে এসে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁর মাথার পিছনে গুলি চালায়। গুলির অভিঘাতে সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। হামলাকারীরা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি কেটিভি বাংলা।
কে এই মহম্মদ কাশিম গুজ্জর? (Pakistan)
গোয়েন্দা মহলের দাবি, নিহত ব্যক্তি গুজ্জরই। ২০২৪ সালের ৭ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে ‘লোন টেররিস্ট’ হিসেবে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ১০ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, রিয়াসি জেলার অন্তত ৫০ জন কিশোর-তরুণকে জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য পাক অধিকৃত কাশ্মীরের শিবিরে পাঠানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের আরও দাবি, ‘লোন উলফ’ তকমা থাকলেও পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা-র সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। পাশাপাশি জৈশ-ই-মহম্মদ-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল বলে জানা যাচ্ছে।
কাকতালীয় না কৌশল? (Pakistan)
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের মাটিতে একই কায়দায় একাধিক জঙ্গি নেতা খুন হয়েছেন। আবু কতাল যিনি হাফিজ় সইদ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত ছাড়াও আবু সইফুল্লা খালিদ, আব্দুল রেহমান, হাজিবুল্লাহ ওরফে আদনান আহমেদ, আক্রাম গাজ়ি এবং আবু কাশিমের মতো শীর্ষ কম্যান্ডারদের উপর একই ধরনের হামলা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা ধরা পড়েনি।
আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
কে চালাচ্ছে এই অপারেশন?
হামলার ধরনে মিল রয়েছে ফাঁকা বা তুলনামূলক নির্জন রাস্তা, পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি, এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চম্পট। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, টার্গেটের গতিবিধি সম্পর্কে আগে থেকেই নির্ভুল তথ্য থাকছে হামলাকারীদের কাছে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একই ছবি। যদিও একটি সূত্রের দাবি, গুজ্জরের সঙ্গে আরও এক সহযোগী ছিলেন, তাকেও নাকি গুলি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও নিশ্চিতকরণ নেই। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।
ভিডিয়োর সত্যতা, হামলাকারীদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য নেপথ্য শক্তি সব কিছু নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, কারা এই আততায়ী ? কোথা থেকেই বা আসে আর কোথায় বা উবে যায় ? আদেও কি উত্তর মিলবে ? নাকি এরপর টার্গেট আরও বড় কোনো জঙ্গি?



