Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে (Mamata Banerjee)। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ তুলেছেন যে, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে একটি “সর্বনাশী খেলা” চলছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট এটি কেবল প্রশাসনিক মতপার্থক্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন।

নিয়মের বৈষম্য (Mamata Banerjee)
মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান আপত্তি নিয়মের প্রয়োগে বৈষম্য নিয়ে। তাঁর প্রশ্ন যে নথি বিহারের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য, বাংলার ক্ষেত্রে তা অগ্রাহ্য কেন? বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি রেজিস্টার’ প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানতে চান, যদি তা অন্য রাজ্যে বৈধ প্রমাণ হিসেবে মান্যতা পায়, তবে বাংলায় তা বাতিল করা হচ্ছে কেন? এই অভিযোগের অন্তর্নিহিত বার্তা হল, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একরূপতা থাকা জরুরি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, এক রাজ্যে এক নিয়ম এবং অন্য রাজ্যে অন্য নিয়ম এমন অভিযোগ গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর প্রশ্ন তোলে।
সুপ্রিম কোর্ট ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন (Mamata Banerjee)
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আইনি স্তরেও সমাধান অনিশ্চিত রয়ে গেছে। আইনি লড়াই চলমান থাকলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেমে নেই। এতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার মধ্যে সংঘাত আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
ইআরও ও এইআরও-দের সাসপেনশন (Mamata Banerjee)
শুধু ভোটার তালিকা সংশোধন নয়, বাংলার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার -দের সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, কমিশনের এই পদক্ষেপ ‘তুঘলকি’। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধী শাসিত রাজ্যের কর্মকর্তাদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বদলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

‘ক্যাপচার কমিশন’ বিতর্ক (Mamata Banerjee)
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তাঁর বক্তব্য, কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে ‘ক্যাপচার কমিশন’-এ পরিণত হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক পরিসরে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ভারতের গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তার ওপর আস্থাহীনতা তৈরি হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
চূড়ান্ত তালিকার আগে উত্তেজনা (Mamata Banerjee)
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তার ঠিক আগে এই সংঘাত রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করেছে। ভোটারদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান কার্যত মুখোমুখি।

আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
গণতন্ত্রের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
এই সংঘাত কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে নয়, বরং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রশ্ন উত্থাপন করছে। ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের মূলভিত্তি এখানে সামান্য ত্রুটি বা পক্ষপাতের অভিযোগও জনআস্থাকে নড়বড়ে করতে পারে। যদি নিয়মের প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত না হয়, তবে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হবে। আবার যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবুও জনমনে সন্দেহের বীজ রয়ে যেতে পারে।



