Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি (Sundar Pichai)। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্ণধাররা। সম্প্রতি ‘ওপেনএআই’-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান-এর পর এবার Google-এর সিইও Sundar Pichai ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে।

‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ (Sundar Pichai)
দিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর মঞ্চে সুন্দর পিচাই বলেন, এআই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলির একটি। তাঁর কথায়, “এটি এমন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা আন্তর্জাতিক স্তরে নানা সমস্যার সমাধান করতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে।” স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শিক্ষা প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই-এর ব্যবহার ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। রোগ নির্ণয়, ওষুধ আবিষ্কার, ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষার সুযোগ সব ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। পিচাই আরও জানান, ভারতে এআই ব্যবহারের হার ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা যেমন ডেটা অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি এবং গবেষণায় বিনিয়োগ এই ক্ষেত্রের অগ্রগতিকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে। সেগুলি কাটিয়ে উঠতে পারলেই ভারত বৈশ্বিক মঞ্চে আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারবে।
নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ (Sundar Pichai)
গত বছর Google বিশাখাপত্তনমে একটি এআই হাব গড়ে তোলার ঘোষণা করেছে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলার। এই হাবের লক্ষ্য হবে গবেষণা, স্টার্টআপ সমর্থন এবং দক্ষতা উন্নয়ন। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘ইন্ডিয়া-আমেরিকা কানেক্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন পিচাই। এর মাধ্যমে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এআই গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি, বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে ত্বরান্বিত করতে ‘এআই ফর সায়েন্স ইমপ্যাক্ট চ্যালেঞ্জ’ নামে তিন কোটি ডলারের একটি প্রকল্পও চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি প্রমাণ করে যে, ভারত কেবল একটি বড় বাজার নয় বরং ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

ওপেনএআই ও ভারতের দ্রুত উত্থান (Sundar Pichai)
দিল্লির এআই সম্মেলনে যোগ দিয়ে স্যাম অল্টম্যান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। ব্যবহারকারীর সংখ্যার বিচারে আমেরিকার পরে ভারতই OpenAI-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। বর্তমানে দেশে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। সারা বিশ্বে যত পড়ুয়া ChatGPT ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই সর্বাধিক। গবেষণার কাজে সহায়ক ‘প্রিজম’ নামের একটি টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভারত বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। নয়াদিল্লিতে ইতিমধ্যেই নতুন দপ্তর খুলেছে OpenAI। চারটি বড় শহরের বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থার অন্তত ২০০ জন আধিকারিককে এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতে সমঝোতা করে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন অল্টম্যান।
কর্মসংস্থানে এআই-এর প্রভাব (Sundar Pichai)
ভারতে বিপুল তরুণ জনসংখ্যা রয়েছে। এই মানবসম্পদ যদি সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পায়, তবে এআই ক্ষেত্র ভারতের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
১. শিক্ষা ক্ষেত্রে – ব্যক্তিগতকৃত লার্নিং, ভাষান্তর প্রযুক্তি ও ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার ব্যবধান কমানো সম্ভব।
২. স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে – দ্রুত রোগ নির্ণয়, টেলিমেডিসিন ও ডেটা বিশ্লেষণ চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও কার্যকর করতে পারে।
৩. কর্মসংস্থান – নতুন ধরনের চাকরি ও স্টার্টআপের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে।

আরও পড়ুন: Kolkata: কবীর সুমনের উদ্বোধনে একুশের বইমেলা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লায়েলকা মাঠে
ভবিষ্যতের দিশা
যদিও সম্ভাবনা বিপুল, তবুও ডেটা সুরক্ষা, নীতিনির্ধারণ, নৈতিকতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এআই বিপ্লব সম্পূর্ণ সফল হবে না। তবে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিনিয়োগ ও আস্থার বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে ভারত এখন এআই মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিগত সহায়তা পেলে, আগামী দশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্বনেতৃত্বের দৌড়ে ভারত অন্যতম প্রধান প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারে।



