Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের প্রথম এআই সম্মেলন ঘিরে যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, তা মুহূর্তের মধ্যে বিতর্কে ঢাকা পড়ে গেল (Rahul Gandhi)। নয়ডার গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়-এর একটি উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘ওরিয়ন’ নামে একটি নজরদারি রোবট কুকুরকে নিজেদের গবেষণার ফসল বলে দাবি করার পরেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। বিরোধীরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে কেন্দ্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যা নিজেদের তৈরি নয়, তা সম্মেলনে প্রদর্শন করা যাবে না।

‘ওরিয়ন’ রোবট কুকুর (Rahul Gandhi)
সম্মেলনে গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা যে ‘ওরিয়ন’ নামের রোবট কুকুর প্রদর্শন করেন, সেটিকে তাঁদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়। একটি ভাইরাল ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি এআই গবেষণায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং তারই ফল এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারি যন্ত্র। কিন্তু পরে জানা যায়, ওই রোবটটি আসলে চিনা সংস্থা Unitree Robotics-এর তৈরি বাণিজ্যিক পণ্য Unitree Go2। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য প্রায় ২৮০০ মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এটি কোনও মৌলিক গবেষণার ফল নয়, বরং বাজারচলতি একটি রোবট। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরস ও কটাক্ষের ঢেউ ওঠে। চিনা সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হলে আন্তর্জাতিক স্তরে বিষয়টি আরও চর্চিত হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া (Rahul Gandhi)
ঘটনাকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, এআই সম্মেলনটি নাকি ‘প্রচারে আসার ব্যর্থ চেষ্টা’। তাঁর অভিযোগ, ভারতের প্রতিভা ও তথ্য তুলে ধরার বদলে এখানে দেশের তথ্য বিক্রি হচ্ছে এবং চিনা পণ্যকে ভারতীয় উদ্ভাবন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কংগ্রেসের একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করা হয়। বিরোধীদের বক্তব্য, এই ঘটনা ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ভুল বার্তা দিতে পারে।

কেন্দ্রের কড়া অবস্থান (Rahul Gandhi)
বিতর্ক তীব্র হতেই কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণন স্পষ্ট জানিয়ে দেন সম্মেলনে কেবলমাত্র নিজস্ব উদ্ভাবনই প্রদর্শিত হবে। ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর মন্তব্য, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রদর্শিত প্রতিটি প্রকল্পের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। বিতর্কের জেরে গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মেলন প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফাই (Rahul Gandhi)
সমালোচনার মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায় চাপায় তাঁদের প্রচার বিভাগের প্রধানের উপর। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রোবটটির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার অধিকারও তাঁর ছিল না। অতি উৎসাহে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপিত প্রকল্পের উৎস ও মালিকানা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কীভাবে অবগত থাকলেন না? এত বড় অঙ্কের গবেষণা বিনিয়োগের দাবি যাচাই না করেই কীভাবে প্রকাশ্যে বলা হল?

আরও পড়ুন: Sundar Pichai: এআই দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে ভারত? অল্টম্যানের পর পিচাইয়ের বড় বার্তা!
প্রযুক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন
ভারত বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। স্টার্ট-আপ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি উদ্যোগ মিলিয়ে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের বিতর্ক দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলনে স্বচ্ছতা ও মৌলিকতার প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও বাণিজ্যিক পণ্যকে নিজস্ব উদ্ভাবন বলে চালানোর চেষ্টা কেবল নৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও ক্ষতিকর।



