Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইউনাইটেড স্টেটস-এর (Iran Russia) সঙ্গে বৈঠকের ঠিক পরেই যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করল ইরান। সেই সঙ্গে আলী খামেনেই-এর নেতৃত্বে দেশটি যৌথভাবে রাশিয়া-এর নৌবাহিনীর সঙ্গে মহড়া চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মহড়া শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরমাণু আলোচনার পটভূমিতেও একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।
মহড়ার স্থান (Iran Russia)
ইরান সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’ (Iran Russia) জানিয়েছে, মহড়ায় অংশ নিয়েছে আলভান্দ গোত্রের ডেস্ট্রয়ার, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার, ল্যান্ডিং ক্র্যাফট এবং নৌযুদ্ধে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ’। এছাড়া যুদ্ধ-স্পিডবোটও মহড়ায় কার্যক্রমে যুক্ত ছিল।

মহড়ার স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ওমান উপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মহড়া ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানকে আরও একবার শক্তি প্রদর্শন করতে চাওয়া ছাড়া, এটি আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি বার্তা হিসেবেও ধরা যেতে পারে। মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনের। ইরান পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
দুই সপ্তাহের সময়সীমা ঘোষণা (Iran Russia)
বৈঠকের পর আরাঘচি জানান, “দুই দেশের মধ্যে (Iran Russia) ভবিষ্যতের আলোচনার দিশানির্দেশ সংক্রান্ত একটি সাধারণ সমঝোতা হয়েছে।” কিন্তু ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মাইক পেন্স জানিয়েছিলেন, ইরান তাদের মূল দাবিগুলি মেনে নেনি। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার শর্তে তেহরান রাজি হয়নি। পাশাপাশি, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের সময়সীমা ঘোষণা করেছিল, কিন্তু এই সময় শুরু হওয়ার আগেই ইরান-মস্কো যৌথ মহড়া শুরু হওয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বরে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে USS আব্রাহাম লিংকন পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সঙ্গে ছিল তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পেন্টাগনের নৌবাহিনী ইরান উপকূলে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলে।

হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা (Iran Russia)
ইরান জবাবে হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা (Iran Russia) চালিয়েছে এবং রাশিয়ার নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া করেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মহড়া সামরিক প্রদর্শন ছাড়া, আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে গণবিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ২০–৩০ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। খামেনেইয়ের বাহিনী এই বিক্ষোভ দমন করেছে।
‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’
অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক পরিসরেও ইরানের অবস্থানকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ও রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক নিয়ে অন্যান্য দেশের সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।আইএইএ বারবার ইরানের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ১৩ জুন ইজরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরান ও অন্যান্য পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালায়। ন’দিন পরে ২২ জুন, আমেরিকার B-2 bomber ইরানের তিনটি কেন্দ্রকে নিশানা করে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ চালায়।
আরও পড়ুন: UP News: ডার্ক ওয়েবে শিশুদের ভিডিও বিক্রি! শিশু নির্যাতন মামলায় দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড
পরমাণু চুক্তি নিয়ে এখনও ইরান ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে রাজি নয়। ফলে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-রাশিয়া যৌথ মহড়া এবং পরমাণু বৈঠকের ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নতুন ধরনের সামরিক উত্তেজনা, এশিয়ার বাণিজ্যিক জলপথের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলে উত্তেজনা কমানো সম্ভব হবে।


