Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কেরলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে (Mamata Banerjee)। একদিকে দক্ষিণের রাজ্য কেরল দীর্ঘদিনের দাবিতে সায় পেয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এখনও ঝুলে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন বাংলা কি বঞ্চিত হচ্ছে?
‘কেরল’ থেকে ‘কেরলম’ (Mamata Banerjee)
কেরল বিধানসভা বহুদিন ধরেই রাজ্যের নাম ‘কেরল’ থেকে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাব পাস করেছে। তাদের যুক্তি, “কেরলম” নামটি মালয়ালম ভাষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগতভাবে বেশি সঙ্গতিপূর্ণ। স্থানীয় পরিচয়, ভাষা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছিল। প্রথম প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কিছু প্রযুক্তিগত আপত্তি তোলে। পরে সেই সংশোধন মেনে ২০২৪ সালের ২৫ জুন দ্বিতীয়বার প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। অবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই নাম পরিবর্তন কার্যকর হবে।
বাংলার নামবদলের প্রস্তাব (Mamata Banerjee)
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাও এর আগে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস করেছিল। প্রস্তাব ছিল “West Bengal” পরিবর্তন করে “Bangla” রাখা হোক। যুক্তি ছিল ইংরেজি বর্ণানুক্রমে রাজ্যের নামের কারণে জাতীয় বৈঠকগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা প্রায়শই শেষে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। এছাড়া “Bangla” নামটি ভাষাগত ও সাংস্কৃতিকভাবে অধিকতর প্রাসঙ্গিক। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে এখনও সেই প্রস্তাবে চূড়ান্ত ছাড়পত্র মেলেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে একই ধরনের দাবিতে এক রাজ্য সম্মতি পেলেও অন্য রাজ্য কেন পেল না?
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ (Mamata Banerjee)
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করছে। তাঁর বক্তব্য, “ওরা বাংলা বিরোধী বলেই আমাদের নাম বদলের প্রস্তাবে সায় দেয়নি।” এমনকি তিনি ইঙ্গিত করেছেন, কেরলে বাম সরকার ও বিজেপির মধ্যে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার কারণেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত দ্রুত হয়েছে। এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। কারণ কেরলে ক্ষমতায় রয়েছে Communist Party of India (Marxist) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, আর কেন্দ্রে রয়েছে Bharatiya Janata Party। দুই রাজনৈতিক মতাদর্শ ঐতিহাসিকভাবে বিপরীত মেরুর হলেও বাস্তব রাজনীতিতে কৌশলগত সমঝোতার অভিযোগ নতুন নয়।
কী বলে আইন? (Mamata Banerjee)
ভারতের সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভা প্রস্তাব পাশ করবে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রস্তাব বিবেচনা করে সংসদে বিল আকারে পেশ করবে। সংসদে তা পাশ হলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির মাধ্যমে নাম পরিবর্তন কার্যকর হয়। অর্থাৎ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সংসদের হাতেই থাকে। ফলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দুটোই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
কৌশল না কাকতালীয়?
ভোটের মুখে কেরলের প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, এটি কেন্দ্রের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। আবার কেউ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার ফলেই এই অনুমোদন এসেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে একই গতি কেন দেখা যাচ্ছে না এই প্রশ্ন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলায় আসন্ন নির্বাচনের আবহে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।



