Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফাগুনের আগুনরঙে নয়, বরং প্রেম ও ভক্তির অনির্বচনীয় আবেশে এ বছর বসন্তকে স্বাগত জানাল ব্রজভূমি (Yogi Adityanath)। বরসানা–র পবিত্র আঙিনায় বুধবার বিকেলে পালিত হল বিশ্ববিখ্যাত ‘লাঠমার হোলি’। হাজার বছরের প্রাচীন এই রীতির সাক্ষী থাকতে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক ভক্ত সমবেত হন রাধারানির জন্মভূমিতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের এই ‘রঙ্গোৎসব’ নিরাপত্তা ও আয়োজন উভয় দিক থেকেই এক নতুন মাত্রা স্পর্শ করেছে।

প্রাচীন কাহিনির জীবন্ত পুনরাভিনয় (Yogi Adityanath)
লোককথা অনুসারে, দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখাদের নিয়ে বরসানায় রাধিকা ও তাঁর সখীদের সঙ্গে হোলি খেলতে আসতেন (Yogi Adityanath)। সেই সময় রাধার সখীরা লাঠি হাতে কৃষ্ণ ও তাঁর সঙ্গীদের রঙ্গরসে তাড়া করতেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাতেই আজও নন্দগাঁওয়ের পুরুষরা যাঁদের স্থানীয়ভাবে ‘হুরিয়ার’ বলা হয় ঢাল হাতে বরসানায় আসেন, আর মহিলারা সস্নেহে তাঁদের ওপর লাঠি বর্ষণ করেন। সূত্রের খবর, বিকেল পাঁচটা নাগাদ মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথা মেনে নন্দগাঁও থেকে আগত পুরুষদের প্রথমে ‘প্রিয়া কুণ্ড’-এ রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর তাঁরা লাডলি কিশোরী মন্দিরে গিয়ে রাধারানির অনুমতি নিয়ে ‘রঙ্গিলি গলি’-তে প্রবেশ করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশপথে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়, আর চারদিকে ধ্বনিত হয় রাধা-কৃষ্ণের জয়ধ্বনি।
আবির-গুলালে রাঙা অলিগলি (Yogi Adityanath)
সকাল থেকেই বরসানার অলিগলি আবির ও গুলালে রঙিন হয়ে ওঠে। বসন্ত পঞ্চমী থেকে শুরু হওয়া ব্রজের ৪৫ দিনের দোল উৎসবের মধ্যে লাঠমার হোলিই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বলে স্থানীয়দের দাবি। ভক্তদের মতে, এই লাঠির ঘায়ে ব্যথা নেই—আছে শুধু প্রেম, ভক্তি ও আনন্দের স্পর্শ। উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত যেন আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাসে ভরা। এক বিদেশি ভক্ত সূত্র মারফত জানান, “এখানে এসে মনে হচ্ছে স্বয়ং কানহাইয়া যেন ভক্তদের সঙ্গে হোলি খেলছেন।” এই মন্তব্যেই ধরা পড়ে উৎসবের আবেগঘন পরিবেশ।
আরও পড়ুন: Naihati Boro Maa: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান? বড়মার দর্শনে চালু হচ্ছে নো-লাইন নিয়ম
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রশাসন
উৎসব উপলক্ষে গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে প্রশাসন। সূত্রের খবর, প্রায় সাড়ে চার হাজার পুলিশকর্মী ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়। যোগী আদিত্যনাথ–এর নির্দেশে গোটা আয়োজন সুসংগঠিতভাবে সম্পন্ন হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।



