Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফেব্রুয়ারির মাত্র ২৬ দিনেই পঞ্চাশবারের বেশি কেঁপে উঠেছে সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড় (Darjeeling Earthquake)। ঘন ঘন এই কম্পন শুধু ভূতত্ত্ববিদদেরই ভাবাচ্ছে না, আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যেও। বিশেষ করে যখন সরকারি সংস্থার আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপে এই অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তখন উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

পরিসংখ্যান যা ভাবাচ্ছে (Darjeeling Earthquake)
National Center for Seismology (এনসিএস) এবং United States Geological Survey (ইউএসজিএস)-এর গবেষণা বলছে, গত এক দশকে সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড়ে চারশোর বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। গড়ে বছরে ৪৩টি এবং মাসে প্রায় ৩টি কম্পন অনুভূত হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই গড় ভেঙে গেছে। ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৩ বার ছোট-বড় কম্পন রেকর্ড হয় সিকিমে। মূল কম্পনের তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৫ এবং উৎসস্থল ছিল গিয়ালশিংয়ের ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এরপরও ৩.৯ থেকে ৪.৬ মাত্রার একাধিক ভূমিকম্প হয়েছে সোরেং ও গিয়ালশিং এলাকায়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল গিয়ালশিং, ইউকসোম ও রাবাংলা যেন বারবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
সর্বোচ্চ ঝুঁকির জোনে হিমালয় (Darjeeling Earthquake)
সম্প্রতি Bureau of Indian Standards (বিআইএস) দেশের আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপ প্রকাশ করেছে। সেখানে দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং সিকিমের সমস্ত জেলা-সহ পুরো হিমালয় অঞ্চলকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘জোন সিক্স’-এ। এর অর্থ, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ১০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে প্রথম সিসমিক ম্যাপিংয়ে এই অঞ্চল ছিল ‘জোন ফোর’-এ। অর্থাৎ ভূমিকম্পপ্রবণ হলেও সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। কিন্তু নতুন ছয় ভাগের শ্রেণিবিভাগে পুরো হিমালয় ও সংলগ্ন এলাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে ভূ-প্রাকৃতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

কেন বাড়ছে কম্পনের আশঙ্কা? (Darjeeling Earthquake)
ভূগোলের গবেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। হিমালয় ও তার পাদদেশ অবস্থিত ইন্ডিয়ান প্লেটের উপর। এর উত্তরে রয়েছে ইউরেশিয়ান প্লেট। প্রতি বছর ইন্ডিয়ান প্লেট প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার করে উত্তরে সরে ইউরেশিয়ান প্লেটকে ধাক্কা দিচ্ছে। এই টেকটোনিক সংঘর্ষই হিমালয়ের সৃষ্টি করেছে, আর সেই সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও ক্রমাগত রয়ে যাচ্ছে। ভূগর্ভে জমে থাকা শক্তি নির্দিষ্ট সময় অন্তর মুক্তি পাচ্ছে কম্পনের মাধ্যমে। ছোট ছোট কম্পন অনেক সময় বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাসও হতে পারে যদিও তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
পর্যটন শিল্পে আতঙ্কের ছায়া (Darjeeling Earthquake)
উত্তর ও পূর্ব সিকিম, এমনকি সান্দাকফুতে তুষারপাতের কারণে এখন পর্যটকের ভিড় পাহাড়ে। কিন্তু পরপর ভূমিকম্পে আতঙ্কে পর্যটকরা। ভারী তুষারপাতের জেরে শেরাথাং ও ছাঙ্গু হ্রদের আশেপাশে আটকে পড়া কয়েক হাজার পর্যটক সম্প্রতি গ্যাংটকে ফিরেছেন। তার মধ্যেই ভূমিকম্পের ধাক্কা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ধারাবাহিক ভূমিকম্প পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ট্যুর অপারেটর, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং গাড়িচালকদের পর্যটকদের আশ্বস্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Sikandar Raza: রোহিতকে টপকে রাজাই ‘সিকান্দার’
আতঙ্ক না সচেতনতা?
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস মানেই অনিশ্চয়তা। তবে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রস্তুতি। ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণশৈলী বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত মহড়া ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা প্রোটোকল জোরদার করা, জরুরি পরিষেবার আধুনিকীকরণ, এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।



