Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণার পরপরই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদলির সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানোর পর এবার পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলিতেও বড় রদবদল করা হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি, আইজি প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনকে অনেকেই ‘নজিরবিহীন’ বলেই মনে করছেন।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার বদলি (West Bengal Assembly Election)
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন অজয় নন্দা। কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ মহানগরের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদে এই বদলি ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও কড়া নজরে রাখার ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্য পুলিশের ডিজি পদেও পরিবর্তন (West Bengal Assembly Election)
শুধু কলকাতা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদেও বদল আনা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে পীযূষ পাণ্ডের পরিবর্তে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। সাধারণত এই পদে পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব থাকে এই দফতরের উপর।
আইনশৃঙ্খলা ও কারা দফতরেও রদবদল (West Bengal Assembly Election)
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদেও পরিবর্তন করা হয়েছে। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে বিনীত গোয়েলের বদলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয় মুকুন্দ রানাডেকে। এছাড়া ডিজি (কারা) পদে আনা হয়েছে নটরাজন রমেশ বাবুকে। ফলে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের একাধিক স্তরে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিতে চলেছেন।
দ্রুত দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ (West Bengal Assembly Election)
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সব আধিকারিককে সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে তাঁদের নতুন পদে যোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের পদ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁদের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের কঠোর বার্তা (West Bengal Assembly Election)
কিছুদিন আগেই, গত ৯ ও ১০ তারিখে রাজ্যের ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসেছিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের পদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কড়া বার্তা দেন। পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, আসন্ন ভোট যাতে সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসনকে সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিতে হবে।

আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
শাসকদলের অভিযোগ
তবে এত দ্রুত এবং ব্যাপক প্রশাসনিক বদলিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। রাজ্যের শাসকশিবিরের অভিযোগ, ভোট ঘোষণার পরপরই এভাবে আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের বড়সড় রদবদল কমিশনের ‘অতিসক্রিয়তা’-রই প্রমাণ। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কেন্দ্রের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি-এর প্রভাব থাকতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এ বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করা হয়নি।



