Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে (Chandrima Bhattacharya)। এই প্রেক্ষাপটে দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-র নাম ঘোষণা হওয়ার পরই শুরু হয়েছে জোরদার প্রচার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশরপাড়ায় পুজো দিয়ে এবং দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রচারের সূচনা করে কার্যত নির্বাচনী ময়দানে নিজের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিলেন তিনি।

ঐতিহ্য ও রাজনীতির মেলবন্ধন (Chandrima Bhattacharya)
বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ধারাকেই বজায় রেখে বিশরপাড়ায় পুজো দিয়ে নিজের প্রচারযাত্রা শুরু করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন এলাকার মানুষের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক স্থাপন করতে চান, অন্যদিকে তেমনি রাজনৈতিক বার্তাও পৌঁছে দিতে সচেষ্ট হন। দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রচারের সূচনা আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, তৃণমূল কংগ্রেস এখনও গ্রামীণ ও শহরতলির পুরনো রাজনৈতিক পদ্ধতিগুলিকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা (Chandrima Bhattacharya)
প্রার্থীপদ পাওয়ার পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রতি। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দূরদৃষ্টির ফলেই দমদম উত্তর সহ গোটা অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তার কথায়, “এই উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানোই আমার প্রধান লক্ষ্য।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে উন্নয়নকেই সামনে রেখে এগোতে চান।

“কোনও লড়াই ছোট নয়” (Chandrima Bhattacharya)
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বক্তব্যে উঠে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা “কোনও লড়াই ছোট বা খাটো নয়।” অতীতের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এইবার ২০০ পার” স্লোগান থাকলেও ফলাফল ৭৭-এ আটকে গিয়েছিল। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক প্রচারকে খোঁচা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের দলের আত্মবিশ্বাসও তুলে ধরেন। তিনি আরও জানান, রাজনীতির ময়দানে লড়াই চলবেই এবং আগেরবারের মতো এবারও মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ওপরই আস্থা রাখবে।
রাজনৈতিক অভিযোগের সুর (Chandrima Bhattacharya)
নিজের বক্তব্যে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার কথা উল্লেখ করেন। তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা হয়েছে এবং হচ্ছে। তার ইঙ্গিতে স্পষ্ট, দিল্লি থেকে কোনও ‘অদৃশ্য হাত’ এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও এই বক্তব্যে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
দমদম উত্তরের রাজনৈতিক গুরুত্ব
দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। শহরতলি এবং নগরায়নের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রটি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরের মানুষের বাসস্থান। ফলে এখানে নির্বাচনী লড়াই সবসময়ই তীব্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো একজন অভিজ্ঞ নেত্রীর প্রার্থী হওয়া এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।



