Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানে আবারও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় উঠেছে (Iran)। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এক প্রতিভাবান কুস্তিগির সালেহ মহম্মদির ফাঁসি যেন শুধু একটি মৃত্যুদণ্ড নয় এটি এক বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের প্রতীক।

প্রতিভার উত্থান থেকে নির্মম পরিণতি (Iran)
সালেহ মহম্মদি ইরানের কুস্তির অঙ্গনে এক উদীয়মান নাম। অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, জিতেছেন একাধিক খেতাব। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিল ক্রীড়ামহল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাময় জীবনের ইতি ঘটল হঠাৎই। রাষ্ট্রের চোখে তিনি হয়ে উঠলেন ‘অপরাধী’। অভিযোগ গত বছরের বিক্ষোভ চলাকালীন দু’জন পুলিশকর্মীকে হত্যায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ইরানের আইন অনুযায়ী এই অপরাধকে বলা হয় ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অপরাধ’ (Iran)
ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থায় ‘মোহারেবে’ (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) একটি গুরুতর অভিযোগ। এই ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির নজির রয়েছে। আলী খামেনি-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এই আইনের প্রয়োগকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সমালোচকদের মতে, এই আইনকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করা হচ্ছে।

গণবিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের চক্র (Iran)
গত বছরের শেষ থেকে ইরান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থা সব মিলিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে আয়াতোল্লা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু তার জবাবে আসে কঠোর দমননীতি, ব্যাপক গ্রেফতার, দ্রুত বিচার, মৃত্যুদণ্ডের হুমকি, প্রতিবাদে অংশ নিলেই ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘ঈশ্বরের শত্রু’ তকমা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
যুদ্ধের আবহে আরও কঠোরতা (Iran)
বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল-এর সঙ্গে সংঘাত পরিস্থিতি, দেশের অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করেছে প্রশাসন। বিশ্লেষকদের মতে, বাইরের চাপ সামলাতে গিয়ে ভেতরের বিরোধিতা দমন করতে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া (Iran)
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-সহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এই ফাঁসির তীব্র বিরোধিতা করেছে। তারা দাবি করেছে, বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়, অভিযুক্তদের সঠিক আইনি সুযোগ দেওয়া হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতির স্তরে তেমন চাপ তৈরি হয়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: CEO Complain Cell: ৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্য, সিইও দফতরে বিশেষ কমপ্লেন সেল
সংখ্যায় দমন-পীড়নের চিত্র
ইরানের সাম্প্র, তিক পরিস্থিতি ভয়াবহপ্রায় ২০০০ প্রতিবাদীর মৃত্যু, ১০,০০০-এর বেশি গ্রেফতার, একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এই পরিসংখ্যানই তুলে ধরে রাষ্ট্রীয় দমননীতির ভয়াবহতা।



