Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ঢেউ যে কত দ্রুত স্থানীয় অর্থনীতিতে আছড়ে পড়তে পারে (Kalna), তার বাস্তব উদাহরণ এখন পূর্ব বর্ধমানের কালনায়। ইরানকে ঘিরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ফ্লেক্স প্রিন্টিং শিল্পে যা নির্বাচনী মরসুমে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় বাজারে অস্থিরতা (Kalna)
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্বাভাবিক উত্থান ঘটিয়েছে। আর এই তেলের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত প্লাস্টিক শিল্প। ফ্লেক্স তৈরির মূল উপাদান প্লাস্টিক দানা, যা পেট্রোলিয়ামজাত কাঁচামাল থেকে উৎপন্ন। ফলে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লেক্সের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে বহুগুণে।
ব্যবসায়ীদের দিশেহারা অবস্থা (Kalna)
কালনার ফ্লেক্স ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কাঁচামালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে গেছে। অনেকেই আগাম অর্ডার নিয়ে বসে থাকলেও সেই দামে কাজ শেষ করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী গৌড় সাহার কথায়, “যেভাবে কাঁচামালের দাম বাড়ছে, তাতে কাজ চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। পুরনো রেটে অর্ডার নিয়ে এখন লোকসান ছাড়া উপায় নেই।”

ভোটের মরসুমে ভরাডুবি (Kalna)
সাধারণত নির্বাচনের সময়টাই ফ্লেক্স প্রিন্টিং ব্যবসায়ীদের জন্য ‘সোনার সময়’। রাজনৈতিক দলের ব্যানার, পোস্টার, হোর্ডিং সব মিলিয়ে কাজের চাপ থাকে তুঙ্গে। এই সময় বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ, ওভারটাইম কাজ সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা বছরের বড় অংশের লাভ তুলে নেন। কিন্তু এবছর সেই চিত্র একেবারেই ভিন্ন। কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের লাভের বদলে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কাঁচামাল ও সময়সীমার চাপ (Kalna)
শুধু দাম বাড়াই নয়, কাঁচামালের জোগান নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেক ব্যবসায়ীই জানেন না আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তারা পর্যাপ্ত প্লাস্টিক দানা পাবেন কিনা। ফলে নির্ধারিত সময়ে অর্ডার ডেলিভারি দেওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। এর পাশাপাশি, প্রার্থী পরিবর্তনের মতো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও ব্যবসায়ীদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। নতুন প্রার্থীর জন্য নতুন ডিজাইন, নতুন করে কাজ বোঝানো সব মিলিয়ে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়ছে।

রাজনৈতিক দলগুলিরও সঙ্কট (Kalna)
একসময় দেওয়াল লিখন ছিল নির্বাচনী প্রচারের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু এখন দক্ষ ‘রাইটার’-এর অভাবে সেই পদ্ধতি কার্যত বিলুপ্তির পথে। ফলে দ্রুত, সহজ এবং দৃষ্টিনন্দন মাধ্যম হিসেবে ফ্লেক্সই হয়ে উঠেছে প্রধান ভরসা। দাম বেড়েছে, তবুও চাহিদা কমেনি কারণ বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলিও বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ মেনে নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: Korpoor Film Review: অন্তর্ধানের আড়ালে দুর্নীতির গন্ধ, কেমন থ্রিলার ‘কর্পূর’
আশার আলো না অনিশ্চয়তার অন্ধকার?
এক দোকান কর্মীর কথায়, “এখনও কাজ কিছুটা কম রয়েছে, তবে সব প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়ে গেলে কাজের চাপ বাড়বে বলেই আশা।” অর্থাৎ, সামনের দিনগুলোতে কাজ বাড়লেও লাভ বাড়বে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।



