Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে এক ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। তামিলনাড়ুর কলাপক্কমে নির্মিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) “ক্রিটিক্যালিটি” অর্জন করেছে(Nuclear Criticality)। ৬ এপ্রিল এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছায় রিঅ্যাক্টরটি, যা পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত।
ভারতের ঐতিহাসিক সাফল্য (Nuclear Criticality)
‘ক্রিটিক্যালিটি’ বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা, যখন একটি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয়। অর্থাৎ, প্লুটোনিয়াম জ্বালানি নিজেই প্রতিক্রিয়া বজায় রাখতে সক্ষম হয় এবং অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয় না। তবে এই পর্যায়ে পৌঁছানো মানেই রিঅ্যাক্টর চালু হয়ে গেছে, এমন নয় এটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
পারমাণবিক কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ
৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন PFBR ভারতের তিন-পর্যায়ের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের অংশ। এই রিঅ্যাক্টরের বিশেষত্ব হলো এটি যতটা জ্বালানি ব্যবহার করে, তার চেয়ে বেশি উৎপাদন করতে পারে। তাই একে “ব্রিডার রিঅ্যাক্টর” বলা হয়।
জ্বালানি হিসেবে থোরিয়ামের ব্যবহার
ভারতের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশে ইউরেনিয়ামের মজুত অল্প হলেও থোরিয়াম প্রচুর রয়েছে। ভবিষ্যতে থোরিয়ামকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার পথ সুগম করতে PFBR গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ভারতের আত্মনির্ভরতার প্রতীক (Nuclear Criticality)
এই সাফল্য ভারতের আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই রিঅ্যাক্টর ভারতের বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশল দক্ষতার প্রমাণ।
আরও পড়ুন: Kash Patel: অতীতের মদ্যপানের অভিযোগে বিপাকে এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল
পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির দ্বারপ্রান্তে (Nuclear Criticality)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত সেই কয়েকটি দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, যারা এই স্তরের ফাস্ট ব্রিডার প্রযুক্তি সফলভাবে উন্নয়ন করেছে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রচেষ্টার পর PFBR এখন পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির দ্বারপ্রান্তে। রিঅ্যাক্টরটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং পরিষ্কার শক্তির লক্ষ্যে বড় অবদান রাখবে।



