Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকের দিনে গরম মানেই এসি, ফ্যান (Pankha Puller) কিংবা আধুনিক কুলিং ব্যবস্থা। কিন্তু একসময় ব্রিটিশ ভারতের মানুষ গরম থেকে বাঁচতে নির্ভর করতেন এক বিশেষ ধরনের পাখার উপর, যার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একদল মানুষের কঠিন পরিশ্রম। সেই পাখার নাম ছিল ‘পাঙ্খা’ এবং যারা সেটিকে চালাতেন, তাদের বলা হতো ‘পাঙ্খা পুলার’।
শ্রমিকের ঘামে মালিকের গায়ে ঠাণ্ডা বাতাস (Pankha Puller)
১৮ ও ১৯ শতকে ব্রিটিশ শাসনকালে সাহেবদের (Pankha Puller) বাংলো, আদালত, সরকারি দফতর এবং অভিজাত পরিবারের ঘরে এই বিশাল ঝুলন্ত পাখার ব্যবহার ছিল। কাপড় বা কাঠ দিয়ে তৈরি এই পাখা ছাদ থেকে ঝুলিয়ে রাখা হতো। কিন্তু এতে কোনও যান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল না। ঘরের বাইরে বসে থাকা একজন বা একাধিক শ্রমিক দড়ি টেনে সেটিকে নড়াচড়া করাতেন এবং ঘরের ভিতরে তৈরি হতো ঠান্ডা বাতাসের অনুভূতি।
পরিশ্রমসাধ্য কাজ
এই কাজ ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই গতিতে দড়ি টেনে যেতে হতো পাঙ্খা পুলারদের। অনেক সময় রাতের ঘুমের সময়ও তাদের এই কাজ চালিয়ে যেতে হতো, কারণ ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আরামের জন্য সারারাত পাঙ্খা চালু রাখতেন। কাজের মধ্যে সামান্য ভুল বা বিরতি হলেও অনেক শ্রমিককে শাস্তির মুখে পড়তে হতো।
পাঙ্খা পুলারদের জীবন ছিল ঔপনিবেশিক বৈষম্যের এক করুণ উদাহরণ। একজন ব্যক্তি যখন আরামদায়ক বাতাস উপভোগ করতেন, তখন সেই আরামের পেছনে অন্য একজনের ঘাম ও শ্রম লুকিয়ে থাকত। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ এবং বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পেশা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। তবে ইতিহাসের পাতায় পাঙ্খা পুলাররা আজও স্মরণ করিয়ে দেয় ব্রিটিশ ভারতের সেই সময়কে, যখন প্রযুক্তির অভাবে মানুষের শ্রমই ছিল আরামের প্রধান মাধ্যম।


