Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্টকে দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি বলে মনে করা হলেও, বিদেশমন্ত্রকের (MEA) সাম্প্রতিক এক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১৪তম ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’-এ মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়(MEA Passport)।
তাহলে নাগরিকত্বের প্রমাণ কোন নথি? (MEA Passport)
এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে নাগরিকত্বের প্রমাণ কোন নথি?” বিশিষ্ট গীতিকার জাভেদ আখতারও মন্তব্যটিকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমইএ-র বক্তব্য ভারতের বিদ্যমান আইনি অবস্থানের সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ। ২০১৩ সালে বোম্বে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, শুধুমাত্র পাসপোর্টের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা যায় না। নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর বিধান এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে।
এছাড়া পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৭-এর ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো অ-নাগরিককেও ভারতীয় পাসপোর্ট দিতে পারে। ফলে আইনের চোখে পাসপোর্ট নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
অন্যদিকে, আধার কার্ড পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ হলেও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। প্যান কার্ড মূলত করদাতা শনাক্তকরণের নথি। ভোটার আইডি ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হলেও সেটিকেও নাগরিকত্বের নির্ভুল প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় না।
২০২০ সালে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছিল যে আধার, পাসপোর্ট, ভোটার আইডি, প্যান কার্ড বা জন্মসনদের কোনোটিকেই এককভাবে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যায় না(MEA Passport)।
আরও পড়ুন: India Dhaka: বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক বার্তা, হাইকমিশনার পেলেন মন্ত্রীর সমমর্যাদা
বর্তমানে ভারতে এমন কোনো একক জাতীয় নথি নেই, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সকল নাগরিকের নাগরিকত্ব প্রমাণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব সাধারণত একাধিক নথি ও আইনি প্রমাণের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়(MEA Passport)। তবে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ‘সার্টিফিকেট অব ন্যাচারালাইজেশন’ বা ‘সার্টিফিকেট অব রেজিস্ট্রেশন’ নাগরিকত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।



