Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশেষ প্রতিবেদন সুকৃতি ভট্টাচার্য: কয়েক দিন আগেই কেটে গিয়েছে ‘ফাদার্স ডে’। সামাজিক মাধ্যমে বাবার সঙ্গে ছবি, শুভেচ্ছাবার্তা, স্মৃতিচারণে ভরে উঠেছিল চারদিক। কেউ বাবাকে উপহার দিয়েছেন, কেউ সময় কাটিয়েছেন তাঁর সঙ্গে। কিন্তু এই আনন্দের আবহের মধ্যেই এক পরিবারের কাছে ‘ফাদার্স ডে’ হয়ে উঠেছে অসহায় অপেক্ষা আর চোখের জলের প্রতীক। তারাতলার ভয়াবহ গুদাম বিপর্যয়ের পর থেকে এখনও নিখোঁজ স্বপন মণ্ডল। আর তাঁকে খুঁজতেই এসএসকেএম হাসপাতালে ছুটে এসেছে তাঁর দুই মেয়ে। হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে তাঁদের একটাই প্রশ্ন, “আমাদের বাবা কোথায়? (Taratala Accident)”

ধ্বংসস্তূপের নিচে শ্রমজীবী মানুষ (Taratala Accident)
তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকে দিন-রাত এক করে চলছে উদ্ধার অভিযান। ভারী যন্ত্র দিয়ে সরানো হচ্ছে কংক্রিট, লোহার বিম, ইট-পাথরের স্তূপ। উদ্ধারকারী দল প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা খুঁটিয়ে দেখছে, যাতে কোনও মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে না থাকেন। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের উৎকণ্ঠা। সেই তালিকাতেই রয়েছেন স্বপন মণ্ডল। দুর্ঘটনার দিন তিনি কাজ করতে গিয়েছিলেন তারাতলার ওই গুদামে। তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ মেলেনি। পরিবারের কাছে প্রতিটি ঘণ্টা যেন এক একটি অনন্তকাল।
হাসপাতালের করিডরে বাবার খোঁজে দুই মেয়ে
শেষ আশায় স্বপন মণ্ডলের দুই মেয়ে পৌঁছে যান এসএসকেএম হাসপাতালে। হাসপাতালের পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রে বাবার ছবি হাতে নিয়ে তাঁরা একের পর এক কর্মীদের দেখাতে থাকেন। কখনও বাবার পরনের জামাকাপড়ের বর্ণনা দিচ্ছেন, কখনও বলছেন তাঁর শারীরিক গঠনের কথা। প্রতিবারই একই প্রশ্ন ফিরে আসছে, “আমার বাবা কি এখানে ভর্তি আছেন?” কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই। হাসপাতালের করিডরে তাঁদের কান্না, উদ্বেগ আর অসহায় অপেক্ষা উপস্থিত প্রত্যেক মানুষের মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/06/24/taratala-1-2026-06-24-15-24-30.jpg)
পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত (Taratala Accident)
স্বপন মণ্ডল শুধু একজন শ্রমিক নন, তিনি তাঁর পরিবারের প্রধান ভরসা। তাঁর উপার্জনের উপর নির্ভর করেই চলত সংসার। দুই মেয়ের পড়াশোনা, পরিবারের নিত্যদিনের খরচ, ভবিষ্যতের স্বপ্ন সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি। আজ সেই মানুষটির কোনও খোঁজ না থাকায় শুধু মানসিক যন্ত্রণাই নয়, পরিবারকে গ্রাস করেছে গভীর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও। নিখোঁজ বাবাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি আর আগামী দিনের চিন্তা দুটোই একসঙ্গে তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের।
তারাতলার বিপর্যয়, বহু পরিবারের ভাঙা স্বপ্ন (Taratala Accident)
তারাতলার এই মর্মান্তিক ঘটনা কেবল একটি নির্মাণ বা গুদাম দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি নিখোঁজ বা আহত মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবার, অসংখ্য স্বপ্ন, নির্ভরতা এবং ভালোবাসা। কোথাও মা অপেক্ষা করছেন সন্তানের জন্য, কোথাও স্ত্রী অপেক্ষা করছেন স্বামীর জন্য, আবার কোথাও দুই মেয়ে এখনও বিশ্বাস করে আছেন তাঁদের বাবা একদিন ফিরে আসবেন। এই বিপর্যয় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি শ্রমিকের জীবনের মূল্য কতটা অপরিসীম এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

উদ্ধার অভিযান চললেও শেষ হয়নি অপেক্ষা
উদ্ধারকারী দল এখনও নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিখোঁজদের সন্ধানে সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু যাঁরা অপেক্ষা করছেন, তাঁদের কাছে প্রতিটি মুহূর্তই অসহনীয়। একটি ফোনকল, একটি নিশ্চিত খবর কিংবা প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখতে পাওয়ার আশাতেই দিন কাটছে বহু পরিবারের।



