Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন নতুন ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে (Abhishek Banerjee)। তারই অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে মেদিনীপুর। দীর্ঘদিন ধরে এই জেলা রাজনৈতিকভাবে ‘লড়াইয়ের ময়দান’ হিসেবে পরিচিত। কখনও তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি, কখনও বিজেপির উত্থানের প্রতীক মেদিনীপুর বরাবরই রাজ্য রাজনীতির দিশা দেখিয়েছে। আর ঠিক সেই মাটিতেই এবার রাজনৈতিক বদলের জল্পনা আরও ঘনীভূত।
বিজেপি বিধায়কদের তৃণমূলে আসার তদ্বির (Abhishek Banerjee)
মেদিনীপুরে বিজেপির দুই বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিতে আগ্রহী এই তথ্য প্রকাশ্যে এনে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার মেদিনীপুরের ‘রণসংকল্প সভা’ থেকেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিজেপির তরফে যোগাযোগ এলেও তৃণমূল সেই দরজা আপাতত বন্ধ রেখেছে। অভিষেকের কথায়, শুধুমাত্র সংখ্যার হিসেব নয়, দলের কাছে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় জনতার মনোভাব ও কর্মীদের সম্মান। সেই কারণেই বিজেপি থেকে আসতে চাওয়া নেতাদের জন্য তৃণমূলের দরজা খুলে দেওয়া হয়নি।

হিরণ চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গ ও পুরনো বিতর্ক (Abhishek Banerjee)
এই প্রসঙ্গেই খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক ও টলিউডের পরিচিত মুখ হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতির সঙ্গে হিরণ একসময় তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে গিয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তখনও সেই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় দু’বছর আগে হিরণের ওই অফিস সফরের ছবি ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছিল জল্পনা একসময়ের তৃণমূলের যুবনেতা কি ফের পুরনো ঘরে ফিরতে চাইছেন? যদিও তখন বিষয়টি ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়।
‘বেনোজল’ আটকানোর বার্তা (Abhishek Banerjee)
মেদিনীপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা ছিল দলবদলের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার। তাঁর কথায়, “আমরা বেনোজল ঢুকতে দেব না।” অর্থাৎ, শুধু নির্বাচনী অঙ্ক মেলানোর জন্য আদর্শহীন দলবদল তৃণমূল আর মেনে নেবে না। এই অবস্থান আসলে দলের অন্দরমহলে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার কৌশল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সংগঠনে কাজ করা কর্মীদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে বাইরের ‘তারকা’ নয়, সংগঠনের ভিতই দলের আসল শক্তি।
১৫-০ টার্গেট ও চতুর্থবারের স্বপ্ন (Abhishek Banerjee)
এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূলের লক্ষ্য শুধু জেতা নয়, ব্যবধান আরও বাড়ানো। মেদিনীপুর শহরের জনসভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জেলার সবক’টি আসন অর্থাৎ ১৫-০ এই টার্গেট নিয়েই মাঠে নামতে হবে। ‘যতই করো হামলা/আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচির মাধ্যমে গোটা রাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। লক্ষ্য একটাই আগের তিনবারের চেয়েও বড় ব্যবধানে চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠন।

বিজেপির অন্দরকোন্দল ও হিরণের দোলাচল
এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপির অন্দরকোন্দলও নতুন করে সামনে এসেছে। রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর দিলীপ ঘোষের সক্রিয়তা বেড়েছে। শোনা যাচ্ছে, তিনি ফের নিজের পুরনো গড় খড়গপুর থেকে ভোটে লড়তে আগ্রহী। আর সেখানেই সমস্যায় পড়েছেন বর্তমান বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। নিজের আসন হারানোর আশঙ্কা থেকেই হিরণের অস্বস্তি প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর মতে, বর্তমান বিধায়ককে সরিয়ে নতুন করে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত নয়। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই তৃণমূলে যাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে এনে বিজেপিকে কার্যত চাপে ফেলেছেন অভিষেক।



