Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: উৎসব মানেই আনন্দ, ভক্তি, আর ঐতিহ্যের (Adhara Pana) মেলবন্ধন। এমনই এক পবিত্র উৎসব হলো “অধরা পাণা” যা ওড়িশার পুরী জগন্নাথ ধামে প্রতি বছর ঐতিহাসিক রথযাত্রার শেষ দিনে পালিত হয়। এই উৎসবের মূল প্রতীক হলো সংযম, ভক্তি এবং সমস্ত জীবের প্রতি মমত্ববোধ।
প্রবাহিত হয় মন্দির চত্বরে (Adhara Pana)
“অধরা” মানে যেটি ঠোঁট ছুঁয়েও পান করা যায় না, আর “পাণা” (Adhara Pana) মানে পানীয়। অধরা পাণা উৎসবে বিশাল মাটির কলসে তৈরি হয় একটি বিশেষ পানীয়-যা তুলসী পাতা, দই, চিনি, কাঁচা কলা, ছানা, দুধ, মধু ইত্যাদি উপাদানে তৈরি। এই পানীয় কখনোই ঠাকুরদের হাতে বা ঠোঁটে দেওয়া হয় না-বরং কলস ভেঙে সেই পানীয় মাটিতে ঢেলে দেওয়া হয়, যা পরে প্রবাহিত হয় মন্দির চত্বর ও তার আশপাশে।
ক্লান্তি দূর করার প্রতীক (Adhara Pana)
এই রীতি আসলে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা দেবীর রথযাত্রার (Adhara Pana) শেষে তাঁদের ‘রথভঞ্জন’ বা দীর্ঘ যাত্রা থেকে ফিরে আসার ক্লান্তি দূর করার প্রতীক হিসেবে গৃহীত। অধরা পাণা উৎসবের মাধ্যমে তাঁদের দেহ ও মনকে শীতলতা দেওয়া হয়।
অদৃশ্য জীব ও আত্মাদের প্রতি সম্মান
তবে এই উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য হল-এটি অদৃশ্য জীব ও আত্মাদের প্রতি সম্মান জানানো। বিশ্বাস করা হয়, অনেক অদৃশ্য জীব ও আত্মা রথের সময় মন্দির চত্বরে ঘোরাফেরা করে, যারা ভগবানের দর্শন পায় না, প্রসাদ পায় না। অধরা পাণার মাধ্যমে তাঁদেরকেই মূলত তৃপ্তি দেওয়া হয়। কলস ভেঙে পানীয় মাটিতে দেওয়া এই উপলব্ধিকে চিহ্নিত করে।

ঈশ্বর কেবল মানুষেরই নন
এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়-ঈশ্বর কেবল মানুষেরই নন, তিনি সকল জীবের, দৃশ্য ও অদৃশ্যেরও ঈশ্বর। এই বিশ্বাস, এই সহমর্মিতা ও সমবেদনার শিক্ষা অধরা পাণাকে করে তোলে আরও অনন্য, আরও গভীর। আজকের দিনে, যখন আমরা অনেক কিছুতে বিভক্ত, তখন অধরা পাণার এই শিক্ষা আমাদের একত্রে নিয়ে আসে-এক ভক্তি, এক মনোভাব, এক মানবিকতার মোহনায়।
আরও পড়ুন: Men Hair Loss: চল্লিশের পরে চুল পড়ছে? সমাধান কীসে?
অধরা পাণা শুধুই একটি উৎসব নয়, এটি এক অনুভব, এক ভক্তিপূর্ণ আহ্বান-সব কিছুকে ভাগ করে নেওয়ার, সবাইকে ভালোবাসার।


