Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঝাড়খণ্ডের আকাশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ছোট আকারের বিমানের সুরক্ষা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে (Air Ambulance Crash)। রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি চিকিৎসা-বহনকারী বিমান মাঝপথে ভেঙে পড়ে, প্রাণ হারান পাইলট, চিকিৎসক ও এক রোগী-সহ মোট সাতজন। দুর্ঘটনার পর তদন্তে নেমে এক অস্বস্তিকর সত্য সামনে আসে বিমানে ছিল না কোনও ব্ল্যাক বক্স। ফলে রহস্যভেদে বড় বাধা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

ব্ল্যাক বক্স নেই কেন? (Air Ambulance Crash)
সাধারণভাবে বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ‘ব্ল্যাক বক্স’ যার মধ্যে থাকে ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার (FDR) ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (Air Ambulance Crash)। এই যন্ত্র দুটি বিমানের গতিবিধি, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং পাইলটদের কথোপকথন রেকর্ড করে রাখে। কিন্তু অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বিমানের ওজন যদি ৫৭০০ কেজির কম হয়, তবে তাতে ব্ল্যাক বক্স থাকা বাধ্যতামূলক নয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল বিচক্রাফ্ট কিং এয়ার বি৯০ (বিই৯এল সিরিজের একটি রূপান্তরিত মেডিক্যাল ভ্যারিয়েন্ট)। এই শ্রেণির বিমান সাধারণত ছোট আকারের এবং ওজনের সীমার মধ্যে পড়ে। সেই নিয়ম মেনেই বিমানে ব্ল্যাক বক্স ছিল না। ফলে তদন্তকারীরা সরাসরি ককপিটের তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ পাচ্ছেন না।
বিকল্প পথে তদন্ত (Air Ambulance Crash)
ব্ল্যাক বক্স না থাকায় তদন্ত এখন নির্ভর করছে তিনটি প্রধান উৎসের উপর—
এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC) রেকর্ড
বিশেষত Air Traffic Control-এর সঙ্গে বিমানের শেষ যোগাযোগের অডিও ও রাডার ডেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতা এটিএসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ
ঝাড়খণ্ডের ছাতরার সিমারিয়া জঙ্গলে ভেঙে পড়া বিমানের অংশগুলি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইঞ্জিন, রাডার, নেভিগেশন সিস্টেমে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না তা খোঁজা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও আবহাওয়ার তথ্য
দুর্ঘটনার সময় ওই রুটে আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত খারাপ। একই সময়ে Air India ও IndiGo-র দুটি বিমান খারাপ আবহাওয়ার কারণে রুট পরিবর্তনের অনুমতি চেয়েছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু এই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি রুট পরিবর্তন করেনি। কেন করেনি, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

আবহাওয়া রেডার কি বিকল ছিল? (Air Ambulance Crash)
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন বিমানের আবহাওয়া সংক্রান্ত রেডার সঠিকভাবে কাজ করছিল কি না। যদি রেডার বিকল থাকে বা সঠিক তথ্য না দেয়, তবে পাইলট বিভ্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে বজ্রগর্ভ মেঘমালা, প্রবল বায়ুপ্রবাহ বা টার্বুলেন্সের মধ্যে দিয়ে উড়তে গেলে রাডার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানটি ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। পরে পাইলট ১৮ হাজার ফুটে ওঠার অনুমতি চান। অনুমতি প্রক্রিয়া চলাকালীনই হঠাৎ রাডার থেকে হারিয়ে যায় বিমানটি। এই উচ্চতা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কি খারাপ আবহাওয়া এড়াতে নেওয়া হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উড়ানপথ ও সময়রেখা (Air Ambulance Crash)
বিমানটি রাঁচি থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে উড্ডয়ন করে। রাত ১০টার মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মাঝপথে ঝাড়খণ্ডের ছাতরায় সিমারিয়া জঙ্গলে ভেঙে পড়ে বিমানটি। এই সময়রেখা বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে, ঠিক কোন মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

আরও পড়ুন: Naihati Boro Maa: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান? বড়মার দর্শনে চালু হচ্ছে নো-লাইন নিয়ম
তদন্তে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
ব্ল্যাক বক্স না থাকায়, পাইলটের শেষ কথোপকথন সরাসরি জানা যাবে না। ককপিটের যন্ত্রপাতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন হবে।দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণে সময় লাগতে পারে। তবে আধুনিক রাডার ট্র্যাকিং, স্যাটেলাইট ডেটা এবং এটিসি অডিও রেকর্ড অনেকাংশে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



