Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার জেরে ধাপে ধাপে ফুয়েল সারচার্জ বাড়ানোর ঘোষণা করেছে এয়ার ইন্ডিয়া(Air India Surcharge)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি কার্যত “অনিবার্য”।
তিন ধাপে কার্যকর নয়া সারচার্জ (Air India Surcharge)
এয়ার ইন্ডিয়ার মতে, নতুন সারচার্জ তিনটি ধাপে কার্যকর করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যদি এই অতিরিক্ত ফি আরোপ না করা হয়, তাহলে কিছু ফ্লাইটের অপারেটিং খরচ মেটানো সম্ভব হবে না এবং সেগুলি বাতিল করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নতুন হারের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যে যাওয়া ফ্লাইটে ১০ ডলার ফুয়েল সারচার্জ ধার্য করা হয়েছে। আফ্রিকার রুটে এই সারচার্জ ৩০ ডলার বাড়িয়ে মোট ৯০ ডলার করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফ্লাইটে ২০ ডলার বাড়িয়ে সারচার্জ দাঁড়াচ্ছে ৬০ ডলারে।
সারচার্জ নেই এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে
তবে এয়ার ইন্ডিয়ার স্বল্পমূল্যের সহায়ক সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস আপাতত তাদের ফ্লাইটে কোনও ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করছে না। ফলে কিছু যাত্রীর জন্য এটি সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দাম বেড়েছে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকেই অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিমান সংস্থাগুলির মোট অপারেটিং খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই এই জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। ভারতের ক্ষেত্রে দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে এটিএফের উপর উচ্চ এক্সাইজ শুল্ক এবং ভ্যাট থাকায় খরচের চাপ আরও বেড়েছে।
অপরিশোধিত তেল উৎপাদন (Air India Surcharge)
ভারত নিজস্বভাবে সীমিত পরিমাণে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বিমান সংস্থাগুলির উপর পড়ে।
আরও পড়ুন: LPG Auto: যুদ্ধের আবহে শহরে রান্নার গ্যাসের হাহাকার: বাড়ল একাধিক রুটের অটোভাড়া
সংঘাতের কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালী (Air India Surcharge)
অন্যদিকে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী গত দুই সপ্তাহ ধরে সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে, যার ফলে ওই অঞ্চলের প্রধান বন্দরগুলিতে ৭৫০টিরও বেশি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে। ভারত তার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়, যার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশই আসে কাতার থেকে। এই পরিস্থিতি জ্বালানি বাজারে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।



