Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণকে দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে (Air Pollution)। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে দূষিত বাতাসের প্রভাব কেবল ফুসফুস বা হৃদ্যন্ত্রে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সরাসরি মস্তিষ্কের ওপরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ রূপ Alzheimer’s disease-এর ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্মৃতি ও সত্তার অবক্ষয় (Air Pollution)
অ্যালঝাইমার এমন একটি স্নায়ুবিক অবক্ষয়জনিত রোগ, যা ধীরে ধীরে স্মৃতিভ্রংশ, চিন্তাশক্তির অবনতি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতা এবং আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগীকে প্রায় সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করে তোলে। মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাক ও টাউ প্রোটিনের অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা এই রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ভারতের মতো দ্রুত নগরায়িত দেশে, যেখানে গড় আয়ু বাড়ছে এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখানে অ্যালঝাইমার একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যদি বায়ুদূষণের মতো পরিবেশগত ঝুঁকি যুক্ত হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অদৃশ্য কিন্তু বিপজ্জনক শত্রু (Air Pollution)
বায়ুদূষণের অন্যতম ক্ষতিকর উপাদান হল PM2.5 অত্যন্ত সূক্ষ্ম কণিকা পদার্থ, যার ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের কম। এই কণাগুলি গাড়ির ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, কয়লা বা জ্বালানি পোড়ানো এবং নির্মাণকাজ থেকে উৎপন্ন হয়। এতটাই সূক্ষ্ম যে এগুলি সহজেই শ্বাসনালীর মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, PM2.5 মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক দুর্বল করতে পারে এবং স্নায়ুকোষের ক্ষতি ত্বরান্বিত করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি এক্সপোজার স্নায়ুতন্ত্রে ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন সৃষ্টি করে, যা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।

গবেষণার প্রমাণ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ (Air Pollution)
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের মধ্যে বসবাস করেন, তাদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও জ্ঞানীয় ক্ষমতার অবনতি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে দূষণ মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাক জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে যা অ্যালঝাইমারের একটি মুখ্য বৈশিষ্ট্য। যদিও এই সম্পর্ক এখনও পুরোপুরি কারণ-প্রমাণিত নয়, তবু পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য যোগসূত্র পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, দূষণ সরাসরি অ্যালঝাইমার সৃষ্টি করে এমন দাবি করা না গেলেও, এটি ঝুঁকি বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী পরিবেশগত উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দ্বিগুণ ঝুঁকির মুখে (Air Pollution)
বায়ুদূষণের প্রভাব সব বয়সের মানুষের ওপর পড়লেও শিশু ও বয়স্করা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে
দীর্ঘদিনের দূষণ এক্সপোজার স্নায়ুতন্ত্রে স্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। ফলে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে
শিশুদের মস্তিষ্ক তখনও বিকাশমান থাকে। এই সময় দূষণের প্রভাব ভবিষ্যতে জ্ঞানীয় দুর্বলতা, মনোযোগের সমস্যা এবং শেখার অসুবিধার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, দূষণ শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

নগরায়ন, যানবাহন ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ
ভারতের বড় শহরগুলি বিশেষত দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই নিয়মিতভাবে উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের সম্মুখীন হচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নির্মাণকাজ এবং শিল্প সম্প্রসারণের ফলে দূষণের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণ আর কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি এক গুরুতর স্নায়ুবৈজ্ঞানিক জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ অপরিহার্য।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে (Air Pollution)
- দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে বাইরে কম সময় থাকা
- মানসম্মত মাস্ক (যেমন N95) ব্যবহার
- ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস
- নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চর্চা (পড়াশোনা, ধাঁধা সমাধান, সৃজনশীল কাজ)
আরও পড়ুন: Sundar Pichai: এআই দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে ভারত? অল্টম্যানের পর পিচাইয়ের বড় বার্তা!
সামাজিক ও নীতিগত পর্যায়ে
- পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি
- গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন
- শিল্প নির্গমন নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন
- নগর সবুজায়ন বৃদ্ধি
- দূষণ পরিমাপ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নতি



