Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আরব দুনিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে এক জটিল সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়েছে ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্র (Air Travel)। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানির দামে, আর সেই ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের বড় বিমান সংস্থাগুলি। এই প্রেক্ষাপটে, দেশের শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলির সংগঠন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে Air India, IndiGo, SpiceJet-এর মতো প্রথম সারির এয়ারলাইন্স।

আন্তর্জাতিক সংঘাতের ছায়া (Air Travel)
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতার ফলে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের খরচ হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে (Air Travel)। বিশেষ করে Strait of Hormuz-এ উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহণ হয়, ফলে সেখানে কোনও অস্থিরতা মানেই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিমান শিল্পে। শুধু জ্বালানি নয়, আন্তর্জাতিক উড়ান পরিচালনাতেও একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। Dubai International Airport এবং আল মাকতুম International Airport-এ বিদেশি এয়ারলাইন্সের অবতরণে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির রুট নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
চাপের মুখে বিমান সংস্থাগুলি (Air Travel)
এর ফলে শুধু নির্দিষ্ট রুট নয়, গোটা নেটওয়ার্কেই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এফআইএ এই পরিস্থিতিকে ‘ক্যাসকেডিং নেটওয়ার্ক ইমপ্যাক্ট’ বলে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ, একটি রুটে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে একাধিক রুটে ছড়িয়ে পড়তে পারে যার ফলে ফ্লাইট বাতিল, দেরি এবং যাত্রী ভোগান্তি বাড়বে।
এই সঙ্কটের মধ্যেই নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তকে ঘিরে। সম্প্রতি একটি নির্দেশে বলা হয়েছে, এয়ারলাইন্সগুলিকে তাদের মোট আসনের ৬০ শতাংশ যাত্রীদের বিনামূল্যে সিট বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এয়ারলাইন্সগুলির দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তাদের ‘অ্যানসিলারি রেভিনিউ’ বা অতিরিক্ত আয়ের একটি বড় উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে সিট নির্বাচন, অতিরিক্ত ব্যাগেজ, খাবার—এই সমস্ত পরিষেবা থেকে বিমান সংস্থাগুলি উল্লেখযোগ্য আয় করে থাকে।

উড়ান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা (Air Travel)
এই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেলে সংস্থাগুলির সামনে একমাত্র বিকল্প হবে টিকিটের বেস ভাড়া বাড়ানো। ফলে শেষ পর্যন্ত যাত্রীদেরই বাড়তি খরচ বহন করতে হবে বলে মনে করছে সংস্থাগুলি। এদিকে, জ্বালানির খরচ বাড়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে টিকিটের দামে। IndiGo, Air India এবং Akasa Air-এর মতো সংস্থাগুলি টিকিটের উপর নতুন করে ‘ফুয়েল চার্জ’ আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: Weather Kolkata: ঈদের দিন, রাতভর বৃষ্টি সঙ্গে দমকা হাওয়া, আজও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা
‘ক্যাসকেডিং নেটওয়ার্ক ইমপ্যাক্ট’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের বিমান পরিবহণ শিল্প বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়তে পারে। একদিকে অপারেশনাল খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে আয়ের পথ সংকুচিত হচ্ছে এই দ্বৈত চাপে সংস্থাগুলির মুনাফা মার খেতে পারে। সব মিলিয়ে, আরব দুনিয়ার সংঘাত, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক উড়ানে বাধা এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে এখন ভারতের এভিয়েশন সেক্টর। শিল্পমহলের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং নীতিগত সহায়তা না মিললে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের উপর।



