Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বুধবার মুম্বই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করেনি, বরং জন্ম দিয়েছে বহু প্রশ্ন, আবেগ ও কাকতালীয় ঘটনার এক গভীর বৃত্তে (Ajit Pawar)। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যু গোটা দেশের রাজনীতিতে শোকের ছায়া ফেলেছে। বৃহস্পতিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর দু’বছর আগের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট যা আজ যেন আরও ভারী হয়ে ধরা দিচ্ছে বাস্তবতার নির্মমতায়।

শেষ যাত্রার পথে এক অনিবার্য দুর্ঘটনা (Ajit Pawar)
বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল একটি ছোট চার্টার্ড বিমান ‘লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর’। বিমানে ছিলেন অজিত পওয়ার, তাঁর দুই নিরাপত্তারক্ষী এবং দুই পাইলট। বারামতিতে অবতরণের সময়ই ঘটে বিপত্তি। প্রথমবার অবতরণ ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয়বার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রানওয়েতে নামার মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের এক পাশে ভেঙে পড়ে বিমানটি। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ। এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অজিত পওয়ার, তাঁর দুই নিরাপত্তারক্ষী, পাইলট ক্যাপ্টেন শাম্ভবী পাঠক এবং সহকারী পাইলট সুমিত কাপুরের।
আজ আরও অর্থবহ (Ajit Pawar)
ঠিক দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি অজিত পওয়ার তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি যখন হেলিকপ্টার বা বিমানে যাত্রা করি, যদি দেখি সেই কপ্টার বা বিমানটি মসৃণভাবে মাটিতে নামল, বুঝতে পারি বিমানচালক একজন মহিলা।” সেই সময় এই মন্তব্য নেটদুনিয়ায় প্রশংসিত হয়েছিল। অনেকেই এটিকে মহিলা পাইলটদের দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পোস্টটি হারিয়েও গিয়েছিল ভিড়ের মধ্যে। কিন্তু আজ, এই দুর্ঘটনার পর সেই পোস্ট নতুন করে ভাইরাল আর ঠিক এখানেই তৈরি হয়েছে এক নির্মম কাকতালীয়।

দক্ষতার প্রতীক থেকে দুর্ঘটনার মুখ (Ajit Pawar)
দুর্ঘটনাগ্রস্ত লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর বিমানের অন্যতম চালক ছিলেন ক্যাপ্টেন শাম্ভবী পাঠক একজন মহিলা পাইলট। অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। যাঁর উপর অজিত পওয়ারের মতো নেতার ভরসা ছিল, সেই পাইলটই শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন একই দুর্ঘটনায়। এই বাস্তবতা যেন অজিত পওয়ারের পুরনো বক্তব্যকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে। প্রশংসা, ভরসা আর নিয়তির সংঘর্ষ সব মিলিয়ে ঘটনাটি যেন কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এক গভীর ট্র্যাজেডি।
বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে দাবি (Ajit Pawar)
বিমান সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চারসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিমানে কোনও নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল না। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ১৫ বছরের পরিষেবাকালে, এই বিমানের যাত্রীসন্তুষ্টির হার ছিল ৯৯ শতাংশ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষাও করা হত, তাহলে প্রশ্ন উঠছেই যান্ত্রিক ত্রুটি যদি না থাকে, তবে দুর্ঘটনার কারণ কী?
তদন্তের দিশায় নতুন নতুন অনুমান (Ajit Pawar)
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও অজানা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত। উঠে আসছে একাধিক সম্ভাবনা, পাইলটদের শারীরিক অসুস্থতা কি কোনও ভূমিকা রেখেছিল? অবতরণের সময় আবহাওয়া কি প্রতিকূল ছিল? দ্বিতীয়বার অবতরণের সিদ্ধান্ত কি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন ফ্লাইট ডেটা, ব্ল্যাক বক্স এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান।
শোক, প্রশ্ন ও এক অনিশ্চিত উত্তর
অজিত পওয়ারের মৃত্যু শুধুমাত্র এক রাজনৈতিক নেতার বিদায় নয় এ এক আস্থা, অভিজ্ঞতা এবং মানবিক কাকতালীয়তার করুণ পরিসমাপ্তি। একদিকে তাঁর নারী পাইলটদের প্রতি প্রকাশ্য ভরসা, অন্যদিকে সেই ভরসার প্রতীক এক মহিলা পাইলটের সঙ্গেই শেষ যাত্রা এই সমাপতন যেন প্রশ্ন তোলে নিয়তির নির্মমতা নিয়ে।



