Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মনে হচ্ছে কোনো সিনেমার প্লট। বরাহনগরের সোনার দোকানে ডাকাতি এবং দোকান মালিক খুনের ঘটনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য (Alipore Central Jail)। জানা গিয়েছে, গোটা পরিকল্পনাটি হয়েছিল প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতরেই। বিহারের জামুই জেলার এক কুখ্যাত জেলবন্দি দুষ্কৃতীর ছকে তৈরি হয়েছিল এই অপারেশন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দমদমের উঠতি দুষ্কৃতী সঞ্জয় মাইতি, যিনি ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তাঁর এক সহযোগী সুরজিৎ সিকদার-সহ।
আদৌ গ্রেপ্তার হলো দুষ্কৃতী! (Alipore Central Jail)
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার গভীর রাতে নিউ টাউনের একটি গোপন আস্তানা থেকে সঞ্জয়কে গ্রেপ্তার করে ব্যারাকপুর পুলিশ। অপরদিকে, নাগেরবাজারে নিজের বাড়ি থেকে ধরা পড়ে সুরজিৎ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে চুরি হওয়া একাধিক ভরি সোনার গয়না। সোমবার তাদের ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলে তৈরি হয় অপরাধচক্র (Alipore Central Jail)
পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে, বছর পঁয়ত্রিশের সঞ্জয় মাইতি ছিলেন পুরো ঘটনার মাস্টারমাইন্ড। তিনি কয়েক মাস আগে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিলেন। সেই সময়েই তাঁর আলাপ হয় বিহারের কুখ্যাত দুষ্কৃতীর সঙ্গে, যে বর্তমানে ওই জেলেই বন্দি। সেখান থেকেই শুরু হয় অপরাধমূলক পরিকল্পনার নতুন অধ্যায়।
জেলে বন্দি অবস্থায় সঞ্জয়কে ডাকাতি, ছিনতাইসহ একাধিক অপরাধমূলক কাজের প্রস্তাব দেয় বিহারী দুষ্কৃতীটি। জেল থেকে মুক্তি পেলেও সঞ্জয় নিয়মিত যোগাযোগ রাখত ওই দুষ্কৃতীর সঙ্গে, এবং তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সুযোগ খুঁজছিল।
বরাহনগরের দোকান বেছে নেয় সঞ্জয় (Alipore Central Jail)
দমদমের বেদিয়াপাড়ায় বাড়ি হওয়ায় সঞ্জয়ের বরাহনগর এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেই সূত্রেই তার নজরে আসে শম্ভুনাথ দাস লেন লাগোয়া এক সোনার দোকান। বৃদ্ধ দোকানদার শঙ্কর জানা একাই দোকান সামলাতেন। সুযোগ বুঝে সঞ্জয় দোকানটিকে টার্গেট করে। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সে দোকানটির উপর একাধিকবার রেকি চালায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিহার থেকে চারজন দুষ্কৃতী আসে, তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় আরও কয়েকজন। পুরো অপারেশনে নেতৃত্ব দেয় সঞ্জয় নিজে।
ক্রেতা সেজে ঢুকে খুন! (Alipore Central Jail)
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্জয়ের নির্দেশ মতো সুরজিৎ প্রথমে ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে। দোকানদারের সন্দেহ এড়াতে সে সঙ্গে নিয়ে আসে এক লক্ষ টাকা নগদ। কিছুক্ষণ পর একে একে বাকিরাও দোকানে ঢোকে। সঞ্জয় বাইরে বাইকের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল।
দোকান থেকে সোনা লুট করতে গিয়ে বাধা দেন দোকানদার শঙ্কর জানা। তখনই দুষ্কৃতীরা তাঁর মাথায় সোনা কাটার লোহার যন্ত্রাংশ দিয়ে আঘাত করে খুন করে। এরপর তারা দু’দলে ভাগ হয়ে পালায় সুরজিৎ বাইকে সঞ্জয়কে চাপিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়ে।
আরও পড়ুন: North Bengal Floods: ফুঁসছে তোর্সা, ভেঙে পড়ছে সেতু কতটা প্রস্তুত ছিল প্রশাসন এই বিপর্যয়ের জন্য?
তদন্তে পুলিশের জোর,
সূত্রের খবর, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা জানিয়েছেন, “ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জেরা করা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদলের সদস্য সংখ্যা ছিল ৭ থেকে ৮ জন। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে। খুব শিগগিরই পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।” পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিহারের দুষ্কৃতীচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা একাধিক স্থানীয় অপরাধীর নামও উঠে এসেছে। তদন্তে এখন সেই দিকেই নজর দিচ্ছে পুলিশ।



