Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নয়ের দশকের বলিউড সঙ্গীতজগৎ মানেই এক জাদুকরী সময় যেখানে প্রেম, আবেগ আর সুর একসূত্রে গাঁথা থাকত (Alka Yagnik)। সেই সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল কণ্ঠস্বর ছিলেন আলকা ইয়াগনিক। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠত রোম্যান্টিসিজমের মাদকতা, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে দোলা দেয়। কিন্তু সেই সুরের জাদুকরী শিল্পীই আজ লড়ছেন এক কঠিন অসুখের সঙ্গে শ্রবণশক্তি হারানোর বিরল রোগ।

নয়ের দশকের সুরের রানি (Alka Yagnik)
বলিউডের স্বর্ণযুগে কুমার সানু-এর সঙ্গে আলকা ইয়াগনিক-এর যুগলবন্দি ছিল অপরাজেয়। “তুম পাস আয়ে”, “চুরা কে দিল মেরা” বা “বাজিগর ও বাজিগর” এমন অসংখ্য গান আজও প্রেমের প্রতীক। তাঁদের গলায় গাওয়া গান মানেই ছিল অনুভূতির বিস্ফোরণ।
হঠাৎ নেমে এল অন্ধকার (Alka Yagnik)
২০২৪ সাল থেকে আচমকাই সঙ্গীতজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন Alka Yagnik। পরে জানা যায়, তিনি আক্রান্ত হয়েছেন সেনসোরিনিউরাল নার্ভ হেয়ারিং লস (Sensorineural Hearing Loss)-এ একটি গুরুতর শ্রবণজনিত সমস্যা। এই রোগে মূলত কানের অভ্যন্তরীণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে ধীরে ধীরে বা হঠাৎ করেই শুনতে পাওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। অলকার ক্ষেত্রেও ঘটেছিল তেমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বিমান থেকে নামার পর আচমকাই তিনি শুনতে পাচ্ছিলেন না।
শেষ গান ও স্মৃতির আবেশ (Alka Yagnik)
২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অমর সিং চামকিলা ছবির “নরম কালজা” গানে শেষবারের মতো শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠ। গানটির সুরকার ছিলেন A. R. Rahman যিনি নিজেও ভারতীয় সঙ্গীতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। এই গান যেন তাঁর ভক্তদের কাছে এক আবেগঘন স্মৃতি হয়ে রয়েছে যেন এক অস্থায়ী বিদায়ের সুর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা (Alka Yagnik)
২০২৪ সালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে Alka Yagnik প্রথমবার এই অসুস্থতার কথা জানান। তিনি লিখেছিলেন, হঠাৎ করেই তিনি শুনতে পাচ্ছিলেন না, ঘটনাটি তাঁর জীবনে বিশাল ধাক্কা, ভক্তদের কাছে দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা চান একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, অতিরিক্ত জোরে গান শোনা, দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহার এসব অভ্যাস ভবিষ্যতে ভয়াবহ শ্রবণ সমস্যার কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
আশাও বেঁচে আছে
বর্তমানে Alka Yagnik সম্পূর্ণ সুস্থ নন, তবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সুরকাররা এখনও তাঁর কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসেন, কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি কাজ করতে পারছেন না। তবুও তাঁর ভক্তরা আশাবাদী, একদিন আবার সেই চেনা কণ্ঠে ভেসে আসবে প্রেমের সুর।



