Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির কৌশল আরও সূক্ষ্ম হয়ে উঠছে (Amit Shah)। এই প্রেক্ষাপটে মায়াপুর সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মায়াপুর আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের কেন্দ্র হিসেবে। এখানে অবস্থিত ISKCON-এর বিশ্বখ্যাত মন্দির। সারা বছর দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তদের আনাগোনা লেগেই থাকে। এমন একটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আসিনি’ (Amit Shah)
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ শুরুতেই ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি তোলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু-র একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। এই বক্তব্যের মধ্যেই ছিল একটি সূক্ষ্ম বার্তা। রাজনৈতিক পরিচয়কে আড়াল করে ভক্ত পরিচয়কে সামনে আনা এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ, নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল? অনেকেই মনে করছেন, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে শাহ নিজেকে ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চেয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বহুদিন ধরেই তাঁর মায়াপুরে আসার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তা বারবার পিছিয়ে গিয়েছিল। এই আক্ষেপের প্রকাশ যেন সফরটিকে আরও ব্যক্তিগত ও আবেগঘন রূপ দেয়।
ভক্তি আন্দোলন ও বিশ্বব্যাপী প্রসার (Amit Shah)
বক্তব্যে শাহ স্মরণ করেন চৈতন্যদেবের ভক্তি আন্দোলনের সূচনা ও তার বিশ্বব্যাপী বিস্তারের কথা। তিনি বলেন, ভক্তি আন্দোলন মানুষের অন্তর্গত চেতনাকে জাগ্রত করার পথ দেখিয়েছে। এখানে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সামনে এনে এক সাংস্কৃতিক সংহতির বার্তা দেওয়ার প্রয়াস লক্ষ করা যায়। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে জোর দিয়েছে। ফলে চৈতন্য মহাপ্রভুর ঐতিহ্যকে সামনে আনা নিছক ধর্মীয় আবহ তৈরির চেয়েও বৃহত্তর রাজনৈতিক বয়ান গঠনের অংশ হতে পারে বলেই মত অনেকের।

কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের ইঙ্গিত (Amit Shah)
শাহ জানান, মায়াপুরে আসার আগে সকালে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ভক্তদের ‘হরে কৃষ্ণ’ অভিবাদন জানিয়েছেন। এই উল্লেখ কেবল সৌজন্য নয়, বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্মিলিত উপস্থিতির বার্তা বলেও মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানও তুলে ধরা হয়।
বিরোধীদের কটাক্ষ (Amit Shah)
এই সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে, কিন্তু নির্বাচনের আগে এমন সফরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, তা জনগণ বিচার করবে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে ধর্মীয় আবেগকে সামনে এনে রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্মকে ঢাল করে ভোটের আবেগ তৈরির অভিযোগও উঠেছে।

আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
সূক্ষ্ম সীমারেখা
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নতুন নয়। তবে নির্বাচনের আগে ধর্মীয় স্থানে উচ্চপ্রোফাইল সফর সবসময়ই রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। মায়াপুরে দাঁড়িয়ে ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি দিয়ে বক্তব্য শুরু করা এবং নিজেকে চৈতন্যভক্ত হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে একটি আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রশ্ন হল, এটি কি নিছক ভক্তির বহিঃপ্রকাশ, নাকি বৃহত্তর হিন্দুত্ব রাজনীতির অংশ?



