Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার উপকণ্ঠে আনন্দপুর এলাকায় কয়েক মাস আগেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা (Anandapur Fire)। মোমো কারখানা ও গুদামে আগুন লেগে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল সেই ঘটনায়। সেই ট্র্যাজেডির ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই আবারও একই এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এবার আগুন লাগে একটি প্রসিদ্ধ কেক প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানায়। দ্রুত দমকলের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

ইএম বাইপাসের কসবা এলাকায় আগুন (Anandapur Fire)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইএম বাইপাস সংলগ্ন কসবা এলাকায় একটি পরিচিত কেক প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানা রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারখানায় নিয়মমাফিক কাজ চলছিল। কর্মীরাও নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু রাত প্রায় আটটা নাগাদ আচমকাই কারখানার ভেতর থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কারখানার ভিতরে থাকা কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন ধোঁয়া দেখে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন (Anandapur Fire)
আগুন লাগার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ কয়েক মাস আগেই আনন্দপুর এলাকার ভয়াবহ মোমো কারখানা অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি এখনও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে। কারখানার ভিতরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। আগুনের তীব্রতা দেখে অনেকে আশঙ্কা করতে থাকেন, আবারও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

দমকলের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে আগুন (Anandapur Fire)
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রথমেই কারখানার চারপাশের এলাকা ঘিরে ফেলা হয় যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারেন। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালানোর পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুনে কারখানার কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।
কীভাবে লাগল আগুন? (Anandapur Fire)
এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রাথমিকভাবে দমকলের অনুমান, শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা কারখানার ভেতর পরিদর্শন করছেন। কারখানার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং নিরাপত্তা মান ঠিকঠাক ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কারখানার সমস্ত কাগজপত্রও পরীক্ষা করা হবে বলে জানা গেছে।
মোমো কারখানার মর্মান্তিক স্মৃতি (Anandapur Fire)
চলতি বছরের শুরুতেই আনন্দপুর এলাকায় একটি মোমো তৈরির কারখানা ও গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। রাতে সেখানে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুন লাগার পর অনেকেই বাইরে বেরতে পারেননি। কার্যত জতুগৃহের মতো পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে তারা ঝলসে পুড়ে মারা যান। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় দেহাংশ। দেহগুলি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে কাউকে চেনা সম্ভব হয়নি। ফলে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হয়। তদন্তের পর ২৭ জনের দেহাংশ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই নতুন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আবারও শিল্প কারখানাগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহর ও শহরতলির বহু ছোট ও মাঝারি কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার যথাযথ মান বজায় থাকে না। আনন্দপুরের পরপর দুটি অগ্নিকাণ্ড সেই আশঙ্কাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।



