Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সিপিএমের ছাত্র-যুব রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে এক গভীর দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সংগঠনের মাঠের কাজ বনাম মিডিয়া ও সোশাল মিডিয়ায় দৃশ্যমানতা। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ (Shatarup Ghosh)। পার্টির সংগঠন গড়ে তোলার কাজে তাঁকে মাঠে-ময়দানে খুব একটা দেখা না গেলেও টেলিভিশন বিতর্ক ও সোশাল মিডিয়ায় তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। আর এখানেই প্রশ্ন তুলছে পার্টির অন্দরমহল মিডিয়ার মুখ হতে গিয়ে কি শ্রেণিচ্যুত হচ্ছেন শতরূপ?

মন্তব্য ও বিতর্কের বিস্ফোরণ (Shatarup Ghosh)
হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠকের পর সেলিমের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে শতরূপ ঘোষ যে ‘নৈতিকতার ঠেকা’ মন্তব্য করেন, তা কার্যত আগুনে ঘি ঢালে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই পার্টির ছাত্র-যুব নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তাঁদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটাক্ষপূর্ণ ভাষা কমিউনিস্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। এক প্রবীণ সিপিএম নেতার মতে, “রাজনৈতিক আক্রমণ চলতেই পারে, কিন্তু কাউকে অপমান করে কথা বললে পার্টির ভোট কি বাড়ে?” এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সিপিএমের অন্দরমহলে।
প্রতীক উর রহমানের পোস্ট (Shatarup Ghosh)
এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের আর এক যুব নেতা প্রতীক উর রহমানের ফেসবুক পোস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রকাশ্যে কোনও নাম না করলেও তাঁর নৈতিকতার প্রশ্ন তোলা পোস্টকে অনেকেই শতরূপ ঘোষের দিকেই ইঙ্গিত বলে ধরে নিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয়, এই পোস্টকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন দলের বহু কর্মী-সমর্থক। এক সমর্থকের মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কাড়ে, “এই মানুষগুলোকেই চাই। সোনার চামচ মুখে দেওয়া বিশ লাখিরা কমিউনিস্ট নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ কী বোঝে?” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এখানে ‘বিশ লাখি কমিউনিস্ট’ বলতে ইঙ্গিত করা হয়েছে শতরূপ ঘোষের দিকেই। ফলে আবার সামনে চলে আসে সেই বিতর্কিত ২২ লক্ষ টাকার গাড়ি কেনার প্রসঙ্গ।
‘বুর্জোয়া মানসিকতা’ বিতর্ক (Shatarup Ghosh)
শতরূপ ঘোষকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। ২২ লক্ষ টাকার গাড়ি কেনা নিয়ে আগেও পার্টির অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল। এক যুব নেতার বক্তব্য, “বাবা গাড়ি কিনে দিতেই পারে, কিন্তু পছন্দ ২২ লক্ষের গাড়ি হবে কেন? অন্য গাড়িও তো হতে পারত। এটা বুর্জোয়া মানসিকতা।” কমিউনিস্ট রাজনীতিতে ব্যক্তিগত জীবনযাপনও যে রাজনৈতিক বার্তা বহন করে এই ধারণা থেকেই এই ক্ষোভ। অনেকের মতে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার বদলে বিলাসবহুল জীবনযাপন পার্টির ভাবমূর্তিকে আঘাত করে।
ঔদ্ধত্যের অভিযোগ (Shatarup Ghosh)
পার্টির একাংশের অভিযোগ, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ঘনিষ্ঠতা থাকায় শতরূপ ঘোষের মধ্যে এক ধরনের ঔদ্ধত্য তৈরি হয়েছে। ব্যক্তি আক্রমণ, তীব্র ভাষা ও সোশাল মিডিয়ায় আক্রমণাত্মক উপস্থিতি এই সবই নাকি তার বহিঃপ্রকাশ। এক প্রবীণ নেতার ভাষায়, “শতরূপের আচরণে কাজের থেকে লোককে অপমান করার প্রবণতাই বেশি চোখে পড়ে। পার্টির অন্য যুব নেতারা এটা করেন না।”

আরও পড়ুন: Lalbazar CP: অ্যাকশনে নতুন সিপি: রাতের কলকাতায় সতর্ক লালবাজার
প্রশ্ন উঠছে নেতৃত্ব বাছাই নিয়ে
এই বিতর্কের আর এক দিক হল যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র ও যুব সংগঠনের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলে এসেছেন, তাঁদের ভূমিকা ক্রমশ আড়ালে চলে যাচ্ছে। প্রতীক উর রহমান, সৃজন ভট্টাচার্যের মতো নেতারা সংগঠনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও পার্টির ‘সামনের সারি’র মুখ হিসেবে তাঁদের তুলে ধরা হচ্ছে না এমন অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সিপিএম কি সংগঠককে গুরুত্ব দেবে, না কি মিডিয়ায় মুখ দেখানো নেতাকেই ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে বেছে নেবে?



