Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকের প্রজন্ম যখন অধিকাংশ সময় ব্যয় করছে সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে পর্দায়, তখনই নীরবে সাহিত্যপ্রেমীদের একান্ত অনুভূতির পরিসর গড়ে তুলেছে ”অনুভূতি প্রকাশন’ (Anuvuti Prakashan)। নবীন-প্রবীণদের কলম, কণ্ঠ ও সৃষ্টিকে এক সুতোয় গেঁথে রাখার প্রয়াস ইতিমধ্যেই সাহিত্যচর্চার এক মূল্যবান অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। অথচ এই পথ চলার মূল শিকড় লুকিয়ে রয়েছে স্বাধীনতার আগের অজানা এক দিনে ১৯৪২ সালের ১লা নভেম্বর, দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার কুলিদা গ্রামের এক সাধারণ উঠোনে।

বিপন্ন সময়েই জন্ম সাহিত্য-উদ্যোগের (Anuvuti Prakashan)
স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়। ঠিক তখনই স্বর্গীয় ক্ষেত্রমোহন মহাপাত্র এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ অসাধারণ সাহস নিয়ে শুরু করেছিলেন একটি ক্ষুদ্র প্রকাশন ও পত্রিকা। নাম দিয়েছিলেন স্বপ্নময় ‘ফউতি’। আর্থিক অভাব, সংগ্রাম এবং সময়ের প্রতিকূলতার কাছে দীর্ঘদিন টিকতে পারেনি সেই উদ্যোগ। ইতিহাসের পাতায় মুছে যায় নাম, থেকে যায় শুধু স্মৃতি।
প্রজন্মের হাতে পুরনো স্বপ্নের পুনর্জন্ম (Anuvuti Prakashan)
বহু দশক পরে সেই একই পরিবারের সন্তান অমর মিশ্র, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র হয়েও মনে রেখেছিলেন ঠাকুমার বাবার অসমাপ্ত পথচলা। লেখনী ছিল তাঁর নেশা, আত্মপরিচয়, শক্তি। মনে প্রশ্ন জাগে, “যে স্বপ্ন শুরু হয়েছিল, তা কি এভাবেই শেষ হয়ে যাবে?” উত্তর আসে নিজের ভেতর থেকেই। ২০১৯ সালের মহালয়া: ‘অনুভূতি’ পত্রিকার পুনর্জন্ম কুলিদা গ্রাম থেকেই শুরু হয় নতুন সফর। একটি ছোট পত্রিকা, একটি টেবিল, আর এক মানুষের অক্লান্ত শ্রম। ২০২১: ‘অনুভূতি প্রকাশন’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা চাকরির নিশ্চিন্ত পথ এড়িয়ে অমর এগিয়ে যান অনিশ্চিত সাহিত্যজগতে। আশীর্বাদ ছিল পরিবারের, সন্দেহ ছিল সমাজের, “লেখালেখি দিয়ে ভবিষ্যৎ হয় নাকি?” এই প্রশ্ন তাঁকে শুনতে হয়েছে বহুবার। কিন্তু শ্রম থেমে থাকেনি। যুক্তি দাঁড়িয়েছে স্বপ্নের পাশে।

শুধু বই নয়, মানুষের পাশে থাকা (Anuvuti Prakashan)
লকডাউন ও করোনা আতঙ্কে যখন মানুষ দিশাহারা, তখন অনুভূতি প্রকাশন দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষের পাশে, মুক্তভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, অসহায় শিশুদের হাতে খাতা-কলম তুলে দেওয়া, শিল্পী ও লেখকদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানো, এভাবেই অনুভূতি শুধু পত্রিকা নয় এক মানবিক আন্দোলনের নাম হয়ে ওঠে।

অভূতপূর্ব সাফল্য (Anuvuti Prakashan)
২০২১ সালে প্রথম বই প্রকাশ। দ্বিতীয় বছরেই বইয়ের সংখ্যা ছাড়াল ২৭০। ২০২৫-এ এসে টাইটেল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭২ যা এক নতুন মাইলফলক। বহু নতুন লেখকের প্রথম বইয়ের জন্ম দিয়েছে অনুভূতি। আবার প্রতিষ্ঠিত লেখকদেরও একটি স্থায়ী প্রকাশনা-প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আস্থা অর্জন করেছে এই প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: Sholay Screening Cancelled: শেষমুহূর্তে কেন থেমে গেল ‘শোলে’-র গোল্ডেন জুবিলি স্ক্রিনিং?

‘এক শীত সন্ধ্যায় অনুভূতি’
উপস্থিতির আহ্বান জানিয়ে প্রকাশক অমর মিশ্র লেখেন, “সাহিত্য আমাদের অন্তর্গত চেতনার সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি। বিশেষ অতিথির আসনে ছিলেন,
চুমকি চট্টোপাধ্যায় (সম্পাদক, কিশোর ভারতী)
সমুদ্র বসু(প্রাবন্ধিক)
সোমা মুখোপাধ্যায়(প্রাবন্ধিক)
অংশুমান চক্রবর্তী(কবি, সাংবাদিক)
বই প্রকাশ প্রচ্ছদ প্রকাশ কবিতাপাঠ আবৃত্তি বাচিক সংগঠনের বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই চারজনের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও গাম্ভীর্য, মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক গভীরতায় পরিপূর্ণ করে তুলেছে। অনুভূতির এই যাত্রা সেই চেতনারই ধারক। আপনাদের ভালোবাসা, আস্থা ও উপস্থিতি আমাদের পথচলার প্রেরণা।” আজকের প্রজন্মকে বাঁধতে পারে শুধু ডিজিটাল জগৎ নয়, মন, ভাষা, অনুভূতি, সাহিত্যের শক্তি। অনুভূতি প্রকাশন সেই শক্তিকেই টিকিয়ে রেখে এগিয়ে চলেছে। ৪৮ বছর আগের একটি হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন আজ নতুন আলোয় ফিরে এসেছে। সেই আলোয় আজ কলকাতার সাংস্কৃতিক আকাশে প্রস্তুত হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।



