Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চিনা সেনার বাড়তে থাকা সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Arunachal LAC)। তবে এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত সুবিধা নিচ্ছে ভারতীয় সেনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে। সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা জানিয়েছেন ভারতীয় সেনার স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের কমান্ডার-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল দীনেশ সিং রানা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সীমান্তে চিনা ফৌজের নির্মাণকাজ ও অস্বাভাবিক নড়াচড়া এআই-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সেনা মোতায়েন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গিয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন অস্ত্র (Arunachal LAC)
আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে যাচ্ছে দ্রুত। শুধু অস্ত্রশস্ত্র বা সেনা সংখ্যা নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতাই হয়ে উঠছে আসল শক্তি। এআই এখন আর কেবল গবেষণাগারের বিষয় নয় তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিকল্পনায়। লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি কম খরচের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চিনা সেনার গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র, ড্রোন নজরদারি, সেন্সর ডেটা এসব বিশাল তথ্যভাণ্ডার এআই দ্রুত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করতে সক্ষম। তার কথায়, “এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা জানতে পেরেছি, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চিন সেনা কিছু একটা নির্মাণ করছে।” এই নির্মাণকাজকে তিনি ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন।

সীমান্ত রাজনীতি ও কৌশলগত বার্তা (Arunachal LAC)
অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চিনের আপত্তি রয়েছে। তারা এই অঞ্চলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করে। ফলে LAC বরাবর অবকাঠামো নির্মাণ বা সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপকে শুধুমাত্র সামরিক তৎপরতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে এর পেছনে রয়েছে কৌশলগত বার্তা। ভারতীয় সেনা এআই-নির্ভর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সময়মতো সেনা মোতায়েন করেছে। এতে একদিকে যেমন তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, তেমনই কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারতের প্রস্তুতির বার্তা পৌঁছে গিয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এআই দৌড় (Arunachal LAC)
এআই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতা এখন আন্তর্জাতিক শক্তিগুলির মধ্যে তীব্র হয়ে উঠেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা বলেন, এই মুহূর্তে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং চিন-এর মধ্যে এআই প্রযুক্তি নিয়ে এক ধরনের প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এআই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারে। শত্রুপক্ষের কৌশল বিশ্লেষণ, সাইবার সুরক্ষা, ড্রোন সমন্বয়, এমনকি স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধব্যবস্থা সব ক্ষেত্রেই এআই একটি গেম-চেঞ্জার। ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যে দেশ প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকবে, তার কৌশলগত প্রাধান্যও বাড়বে।

আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি
এই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারত স্থানীয়ভাবে তৈরি ও তুলনামূলক কম খরচের এআই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমছে, তেমনই দেশীয় গবেষণা ও প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী হচ্ছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অরুণাচল সীমান্তে এআই ব্যবহারের সফলতা সেই উদ্যোগকেই আরও জোরালো করছে।



