Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় ধাক্কা। বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার ‘গোপন আঁতাত’ সংক্রান্ত ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) হাত ছাড়ল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম (AIMIM)। শুক্রবার সকালে খোদ মিম প্রধানের পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এই জোট ভাঙার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যে কার্যত রাজনৈতিকভাবে একা হয়ে গেলেন হুমায়ুন।
কেন ভাঙল জোট? মিমের কড়া বার্তা
ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিজেপির সঙ্গে কয়েকশো কোটি টাকার চুক্তির কথা স্বীকার করছেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। যদিও তিনি দাবি করেছেন ভিডিয়োটি ‘ফেব্রিক্টেড’ বা এআই দিয়ে বানানো, তবে মিম নেতৃত্ব সেই যুক্তি মানতে নারাজ। শুক্রবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, বাংলার মুসলিমরা দশকের পর দশক ধরে বঞ্চিত ও অবহেলিত।
আরও পড়ুন:West Bengal Elections: ভোটের বঙ্গে মোদির মুখে ‘মৎস্য আখ্যান’!
মিমের লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর তৈরি করা। কিন্তু হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) যে কায়দায় মুসলিম আবেগকে ব্যবহার করে বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করেছেন এবং সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে চেয়েছেন, তাকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না মিম।
একলা চলোর নীতি মিমের
ওয়েইসির দলের ওপর দীর্ঘদিনের ‘বিজেপির বি-টিম’ তকমা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, হুমায়ুনের মতো বিতর্কিত নেতার পাশে থাকলে জাতীয় স্তরে মিমের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই তড়িঘড়ি জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত। মিম জানিয়েছে, এবার থেকে বাংলায় তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে লড়াই করবে। আগামী দিনেও যে তারা কোনও জোটের পথে হাঁটবে না, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন ওয়েইসি।
হুমায়ুনের (Humayun Kabir) জোট-স্বপ্ন এখন অথৈ জলে
নির্বাচনের আগে থেকেই জোট নিয়ে একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। শুরুতে তিনি একতরফাভাবে কংগ্রেস, সিপিআইএম ও আইএসএফ-এর জন্য আসন ছেড়ে জোটের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু মূল ধারার কোনও দলই তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হয়নি। শেষে মিমের সঙ্গে জোট করে রাজ্যের ২০০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল আমজনতা উন্নয়ন পার্টি।
বাতিল যৌথ প্রচার
মুর্শিদাবাদের নওদায় কয়েকদিন আগেই ওয়েইসিকে নিয়ে জমকালো প্রচার চালিয়েছিলেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)। ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে কুড়িটি যৌথ জনসভা করবেন তাঁরা। এমনকি শুক্রবারও একটি হাই-ভোল্টেজ সভার কথা ছিল। কিন্তু ভিডিয়ো বিতর্কে সব পরিকল্পনা এখন বিশ বাঁও জলে। জোট সঙ্গীকে হারিয়ে নির্বাচনী ময়দানে এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে হুমায়ুন কবীর ও তাঁর দল।


