Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় অবৈধ (Assam Eviction Clash) দখলদার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খেরোনি এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা অঞ্চল। এই ঘটনায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। আহত হয়েছেন বহু মানুষ, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রশাসনের তরফে জারি নির্দেশিকা (Assam Eviction Clash)
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ (Assam Eviction Clash) বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে এলাকায় বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গুজব ছড়ানো ও উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় কার্বি আংলং এবং পশ্চিম কার্বি আংলং—এই দুই জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, খেরোনি ও সংলগ্ন এলাকায় শান্তি ফেরাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে (Assam Eviction Clash)
স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, পশুচারণের (Assam Eviction Clash) জন্য সংরক্ষিত সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিহারী বসতি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এই জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে গত ১৫ দিন ধরে অনশন ও আন্দোলন চলছিল। সোমবার থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সোমবার আন্দোলনকারীরা কার্বি আংলং অটোনোমাস কাউন্সিল-এর প্রধানের বাসভবন ও খেরোনি বাজার এলাকার প্রায় ১৫টি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মঙ্গলবার অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদ
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এই অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। একই সময়ে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে আদিবাসী আন্দোলনকারীরাও খেরোনি বাজার এলাকায় জমায়েত করেন। এর পরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।প্রথমে বচসা শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। দু’পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে। ইট-পাথরের বৃষ্টিতে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু দোকান ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: Forest Dept Controversy: ৭ কোটি টাকায় ৫১টি SUV গাড়ি, ওড়িশা বন বিভাগে খরচ ঘিরে বিতর্ক
নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।বর্তমানে খেরোনি ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে এবং যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।


