Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ঘটল এক উদ্বেগজনক ঘটনা। ৭২ বছর বয়সি আইনজীবী রাকেশ কিশোর সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে (CJI BR Gavai) ভারতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই-এর দিকে জুতো ছুঁড়ে মারেন। আদালতের শান্ত পরিবেশে এই ঘটনাটি মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু যা আরও ভয়ানক, তা হলো—এই অপরাধটিকে কিছু মানুষ অনলাইনে ‘ধর্মরক্ষার সাহসী কাজ’ হিসেবে উদযাপন করা শুরু করেন।
‘দেবদেবীর আদেশে কাজ করেছি’ কিশোরের দাবি (CJI BR Gavai)
ঘটনার পর কিশোর কোনও অনুতাপ প্রকাশ না করে দাবি করেন, তিনি এই কাজ করেছেন ‘সনাতন ধর্মের অপমানের প্রতিশোধ’ নিতে এবং এটি “ঈশ্বরের নির্দেশে” করেছেন(CJI BR Gavai)। বয়সের ভারে প্রৌঢ় এই আইনজীবী আদালতের মর্যাদা ভঙ্গ করেও অপরাধবোধহীনভাবে নিজের সহিংসতাকে ‘ধর্মীয় কর্তব্য’ হিসেবে দেখিয়েছেন।
তার এই আচরণকে দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ—বিশেষ করে দক্ষিণপন্থী কিছু গোষ্ঠী—‘সাহসী প্রতিবাদ’ হিসেবে প্রশংসা করতে শুরু করে। কেউ কেউ এমনকি ভিডিও এডিট করে সেই জুতো নিক্ষেপের দৃশ্যকে ত্রিশূল ও ভজনের সুরে ‘দেবীয় বিচার’ বলে প্রচার করে।
গভীর ভুল বোঝাবুঝির প্রতিফলন (CJI BR Gavai)
কিশোর ও তাঁর সমর্থকদের এই প্রতিক্রিয়া আসলে এক গভীর ভুল বোঝাবুঝির প্রতিফলন(CJI BR Gavai)। তারা বুঝতেই পারেননি, ‘সনাতন ধর্ম’ মানে কোনো সংকীর্ণ ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং এক চিরন্তন নৈতিক ও ন্যায়সংগত আদর্শ।
‘সনাতন’ মানে চিরন্তন, আর ‘ধর্ম’ মানে ন্যায় বা কর্তব্য।
আশ্চর্যের বিষয়, ‘সনাতন ধর্ম’ শব্দযুগল প্রথম ব্যবহৃত হয় হিন্দু শাস্ত্রে নয়, বরং প্রাচীন বৌদ্ধ গ্রন্থ সুভাষিত সূত্রে, যেখানে বলা হয়েছে—
“সচ্চা ভে আমতা বচা, এস ধম্মো সনন্তনো।”
অর্থাৎ, “সত্যই অমর বাক্য; সেটিই চিরন্তন ধর্ম।”
অর্থাৎ, ‘সনাতন ধর্ম’ মানে সার্বজনীন সত্যের অনন্ত নৈতিক বিধান, কোনো একক ধর্মীয় গোষ্ঠীর অধিকার নয়(CJI BR Gavai)। পরবর্তীকালে ঔপনিবেশিক যুগে ‘হিন্দু ঐক্য’ গঠনের রাজনৈতিক প্রয়োজনে এই ধারণাটিকে সংকীর্ণভাবে ব্যবহার করা শুরু হয়।

আরও পড়ুন : Gaza War : যুদ্ধের ২ বছর পার! ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় কী ঘটেছিল?
সহিংসতা মানেই ধর্মদ্রোহ(CJI BR Gavai)
যিনি ঈশ্বরের নামে সহিংসতা করেন, তিনি আসলে ধর্মেরই অবমাননা করেন।
সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তি হল ‘অহিংসা’, আত্মসংযম, ও সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা। প্রধান বিচারপতির মতো একজন বিচারপতিকে অপমান করা, আদালতের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা, এই ধর্মীয় নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।(CJI BR Gavai)যিনি ঈশ্বরের নামে সহিংসতা করেন, তিনি আসলে ধর্মেরই অবমাননা করেন।
সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তি হল ‘অহিংসা’, আত্মসংযম, ও সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা। প্রধান বিচারপতির মতো একজন বিচারপতিকে অপমান করা, আদালতের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা, এই ধর্মীয় নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আরও পড়ুন : Bihar Assembly Election : কোনও ছোট ভাই-বড় ভাই নয়! বিহার বিধানসভায় সমান আসনে লড়বে বিজেপি ও জেডিইউ
গবইয়ের সংযমই প্রকৃত ‘ধর্ম’
এই ঘটনার পর চিফ জাস্টিস বি আর গাভাই যেভাবে সংযম ও সৌজন্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামলান, সেটাই প্রকৃত ‘ধর্মাচরণ’(CJI BR Gavai)। তিনি কোনও অভিযোগ দায়ের না করে পুলিশকে বলেন কিশোরের জুতো ফেরত দিতে, এবং স্পষ্টভাবে জানান—
“আমি সব ধর্মকেই সম্মান করি।”
গাভাই নিজে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, কিন্তু তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে সকল বিশ্বাসের প্রতি সমান শ্রদ্ধা—যা সনাতন ধর্মের প্রকৃত অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অন্ধ ক্রোধের বিপদ(CJI BR Gavai)
রাকেশ কিশোরের এই কাজ একক কোনো উন্মাদনার প্রকাশ নয়; বরং সমাজের সেই অংশের প্রতিচ্ছবি, যারা অভিমান ও ভুল তথ্যের আগুনে ধর্মকে অস্ত্রে পরিণত করছে(CJI BR Gavai)। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এই আগুনে ঘি ঢালে—যেখানে ন্যায়বিচার, শালীনতা, আর যুক্তি হারিয়ে যায় সস্তা ধর্মীয় রোমাঞ্চের আড়ালে।
বার কাউন্সিল ইতিমধ্যেই কিশোরের সদস্যপদ বাতিল করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ করেছেন গভীর দুঃখ। কিন্তু তবু একাংশ তাঁকে ‘নায়ক’ করে তুলছে—এটাই সমাজের ভয়াবহ বাস্তবতা(CJI BR Gavai)।
প্রধান বিচারপতির দিকে জুতো ছোড়া শুধু বিচারব্যবস্থার অসম্মান নয়, সনাতন ধর্মের চিরন্তন নীতিরও অপমান।
সত্যিকারের ধর্মরক্ষক কখনোই আইন ভাঙে না, সহিংস হয় না।
কারণ সনাতন ধর্ম টিকে আছে অহিংসা, সহিষ্ণুতা, ও আত্মসংযমে—না যে শোরগোল বা প্রতিহিংসায়।
যে এটি ভুলে যায়, সে শুধু অন্যায় নয়, ধর্মকেও হারায়।


