Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এবারের বাংলাদেশ নির্বাচন (Awami League) একাধিক দিক থেকে নজিরবিহীন। দেশের দীর্ঘদিনের শাসক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের ময়দানে নেই-এই বাস্তবতা ভোটের আবহকে সম্পূর্ণ অন্য মাত্রা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে দলটি নিষিদ্ধ হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন শিবির ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে। দলনেত্রী নিজেও দেশত্যাগের পর অডিয়ো বার্তায় কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাস্তব কী বলছে? (Awami League)
তবু বাস্তব চিত্র এতটা সরল নয়। রাজনৈতিক মহলে (Awami League) জল্পনা, আওয়ামী লীগের সব সমর্থক যে ভোট থেকে দূরে থাকবেন, তা নয়। শোনা যাচ্ছে, দলের একাংশ কর্মী নানা কারণে বুথে যেতে পারেন। কারও ক্ষেত্রে আইনি চাপ বা মামলার ভয় কাজ করছে, আবার কারও উপর প্রভাব ফেলতে পারে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রলোভন। ফলে ‘নো বোট, নো ভোট’ স্লোগান বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত (Awami League)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ এবার সচেতনভাবেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পথে হাঁটেনি। অতীতে বিএনপি ও জামায়াতের ভোট বয়কট এবং হিংসাত্মক আন্দোলন আন্তর্জাতিক স্তরে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আওয়ামী লীগ আরও সতর্ক। উপরন্তু, এই মুহূর্তে দলটির সংগঠন দুর্বল, সহযোগী শক্তিও পাশে নেই। ফলে রাস্তায় নামার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। দলের অন্দরমহলে অবশ্য অন্য ভাবনাও রয়েছে। অনেক নেতা-কর্মীর বিশ্বাস, এই নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ অধ্যায়। সরকারের পরিবর্তন হলে মামলা-মোকদ্দমার চাপ কমবে এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাবে। সেই প্রত্যাশাই তাঁদের ধরে রেখেছে।

আরও পড়ুন: Migrant Worker Death: বাংলা বলাই অপরাধ! মহারাষ্ট্রে ফের খুন পরিযায়ী শ্রমিক
ভোটের আগে প্রাক্তন মন্ত্রী ও সাংসদরা ভিডিও কল বা অডিয়ো বার্তায় সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবুও যাঁরা বুথে যাবেন, তাঁদের বড় অংশ গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে রায় দিতে পারেন বলে ধারণা। সংসদীয় ভোটে বিএনপি বা জামায়াতের বাইরে নির্দল কিংবা সংখ্যালঘু প্রার্থীরাও আওয়ামী ভোটব্যাংকের কিছুটা সমর্থন পেতে পারেন। সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন শুধু ফলের নিরিখে নয়, রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকেও বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


