Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতি ফিরছে এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে (Bangladesh)। কিন্তু কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ যেন সেই আশাবাদে জল ঢেলে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে জেলা শহর একের পর এক ঘটনা প্রশ্ন তুলছে আইন-শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক পরিসরের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেপ্তার (Bangladesh)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামালউদ্দিন-সহ পাঁচজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা শেখ মুজিবুর রহমান-কে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ধ্বংসাবশেষের কাছে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনাক্রমের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অধ্যাপক ও তাঁর সঙ্গীদের টেনে-হিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি। পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। প্রশ্ন উঠছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণের দুঃসাহস কীভাবে দেখাল পুলিশ? এর আগে, প্রায় ছয় মাস আগে একই শিক্ষকের উপর ক্যাম্পাসে মব-হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছায়া? (Bangladesh)
ভোলায় যুবলীগ নেতা আব্দুর রহিম (৪৫)-কে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এ বারের জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-৪ আসনে জয়ী নুরুল ইসলাম নয়ন-এর অনুসারীরা এই ঘটনায় জড়িত। তবে পুলিশ এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি। উল্লেখযোগ্য, নিহতের পরিবারে রাজনৈতিক বিভাজন ছিল। ভাই মফিজুল ইসলাম নিজে বিএনপি-সমর্থক হলেও, আব্দুর রহিম আওয়ামি লিগের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন যদিও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। এমন প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়েই জোর আলোচনা।

কারাবন্দি আওয়ামি নেতার মৃত্যু (Bangladesh)
গাইবান্ধার পলাশবাড়ি আওয়ামি লিগ সভাপতি উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপনের মৃত্যু ঘিরে নতুন বিতর্ক। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর তিনি রংপুর মেডিক্যালে মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, হাইকোর্ট থেকে একাধিকবার জামিন পেলেও তাঁকে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে জেলে রাখা হয়েছিল। পরিবার এই মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছে। প্রায় দেড় বছর হাজতি অবস্থায় থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং বন্দি অবস্থাতেই মৃত্যু হয়। প্রশ্ন উঠছে বিচারাধীন ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর?
নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের পতাকা উত্তোলন (Bangladesh)
একই দিনে খুলনা ও ঠাকুরগাঁওয়ে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত আওয়ামি লিগের দপ্তরে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। খুলনায় দলের কর্মীরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে মালা দেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন। পরবর্তীতে রাতে খুলনার দপ্তরে অগ্নিসংযোগের খবর আসে। দিনাজপুরেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায় রাজনৈতিক মতপ্রকাশ কি এখন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত বা দমনমূলক ব্যবস্থার মুখে?

আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
প্রশাসনের নীরবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ
প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশের ‘মুখে কুলুপ’ এই অভিযোগই বারবার সামনে আসছে। গ্রেপ্তার, খুন, কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু বা অগ্নিসংযোগ কোনও ক্ষেত্রেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জনমনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক সহাবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক পরিচয়ই যেন এখন নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠছে।



