Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে (Bangladesh Unrest) হিংসা ও উগ্রতার অন্ধকার ছবি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে-বাংলাদেশ কি আবার এক ভয়াবহ মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে এগোচ্ছে? ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ সামনে আসার পর সেই আশঙ্কাই আরও জোরালো হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহ ভিডিয়ো সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিভীষিকাময় স্মৃতি (Bangladesh Unrest)
এই হিংসার আবহে যেন ফিরে এসেছে ২০২৪ সালের অগাস্ট (Bangladesh Unrest) মাসের বিভীষিকাময় স্মৃতি। একের পর এক ঘটনায় কেঁপে উঠছে বাংলাদেশ। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাড়ির যে অংশটুকু এতদিন অবশিষ্ট ছিল, সেটুকুও এবার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু ধানমন্ডি নয়, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী রাজশাহীতেও শেখ মুজিবের আরও একটি বাড়িতে চালানো হয়েছে ভাঙচুর। পাশাপাশি আগুন লাগানো হয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক কার্যালয়ে।

নিশানায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসর (Bangladesh Unrest)
হিংসার নিশানায় পড়েছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক (Bangladesh Unrest) পরিসরও। দেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘ছায়ানট’-এ কট্টরপন্থীদের তাণ্ডব দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা, তবলা ফাটিয়ে দেওয়া, হারমোনিয়াম আছড়ে ভাঙা-সব মিলিয়ে সংস্কৃতির উপর সরাসরি আঘাত নেমে এসেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে স্বরলিপি, গানের খাতা ও কাগজপত্র। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতিচর্চার বিরুদ্ধেও স্লোগান তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতাও চরমে
অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতাও চরমে। শেখ হাসিনার ছবিতে আগুন লাগানো হয়েছে বিক্ষোভের সময়। একই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে শেখ হাসিনা-বিরোধী ও ভারত-বিরোধী স্লোগান। এই উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় উপদূতাবাসেও। সেখানে ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে রাতভর ছাত্র ও যুবকদের একাংশ সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।
হাদির মৃত্যু
এই নতুন করে হিংসার সূত্রপাত হয়েছে কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তিনি শুধু আন্দোলনের নেতা ছিলেন না, ভবিষ্যতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে বিজয়নগরে প্রচারের সময় রিকশায় বাড়ি ফেরার পথে মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়াতেই ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: Voter List: খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধনে মাইক্রো অবজারভার নিয়োগে সবুজ সংকেত নির্বাচন কমিশনের
এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস নিহত হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, শহিদ হাদির স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব সরকার নেবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-এই ক্রমবর্ধমান হিংসা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সংস্কৃতির উপর আঘাত কবে থামবে?


