Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতায় জাল পরিচয়ে (Bangladeshi Model Arrested) দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন তিনি। একাধিক পরিচয়পত্র জোগাড় করে কখনও মডেল, কখনও অভিনেত্রী সেজে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন শহরের অন্দরে। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বাংলাদেশি নাগরিক শান্তা পাল। শুধু ভারতীয় আধার ও ভোটার কার্ড জালিয়াতিই নয়, জানা গিয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবি করে কলকাতার থানায় প্রতারণার অভিযোগও জানিয়েছিলেন তিনি।
প্রতারণার অভিযোগ দায়ের (Bangladeshi Model Arrested)
তদন্তে উঠে এসেছে, ঠাকুরপুকুর থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের (Bangladeshi Model Arrested) করেছিলেন শান্তা পাল, যেখানে নিজের পরিচয় গোপন করে তিনি জানান যে তিনি গল্ফগ্রিন থানার রাজেন্দ্রপ্রসাদ কলোনির বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, নিউ আলিপুরে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন শান্তা। সেই ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জার জন্য যোগাযোগ করেন একটি হোম ডেকর সংস্থার কর্ণধারের সঙ্গে। অগ্রিম ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা দেওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ দায়ের করেন প্রথমে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে, পরে এফআইআর দায়েরের আবেদনও জানান। ফ্ল্যাটটি তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং মাসখানেক আগে সেখানে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক দোকানদার।
আরও বড় ষড়যন্ত্র! (Bangladeshi Model Arrested)
তবে এই ঘটনার নেপথ্যে আরও বড় ষড়যন্ত্র (Bangladeshi Model Arrested) লুকিয়ে ছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, শান্তা পালের কাছ থেকে ভারত ও বাংলাদেশ-দুই দেশের পরিচয়পত্রই উদ্ধার হয়েছে। অবাক হয়েছেন তদন্তকারীরা-কীভাবে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এত বছর ধরে কলকাতায় থেকে সরকারি পরিচয়পত্র তৈরি করে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করার সাহস পেলেন?
দুই দেশের পরিচয়পত্র
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যাঁর বিরুদ্ধে শান্তা প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন, সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, ওই ব্যক্তির কাছেও ভারত এবং বাংলাদেশ-দুই দেশের পরিচয়পত্র রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে শান্তার নিজের কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে একই ধরনের ডুয়াল আইডেন্টিটি। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতায় একের পর এক ফ্ল্যাট
সূত্রের খবর, শান্তা শুধুমাত্র ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকেননি, কলকাতায় একের পর এক ফ্ল্যাটও কিনেছেন। বাংলাদেশ থেকে এসে তিনি এতটাই নিপুণভাবে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন যে কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয়নি। অবশেষে পুলিশি তদন্তে ফাঁস হল তার পরিচয়ের পর্দাফাঁস। কিভাবে এই ধরনের পরিচয়পত্র তৈরি হল, কীভাবে নাগরিকত্ব পেলেন তিনি-তা নিয়েও শুরু হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত।


