Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রবীণ বাম নেতা উপেন্দ্র কিস্কু আর নেই (Bankura Purulia Jhargram)। বুধবার রাতে বাঁকুড়ার একটি নার্সিংহোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তাঁর প্রয়াণে শুধু বাঁকুড়া নয়, গোটা জঙ্গলমহল তথা পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

ভেতর দিয়েই রাজনৈতিক উত্থান (Bankura Purulia Jhargram)
সত্তরের দশকের উত্তাল সময়ে বাঁকুড়া জেলার জঙ্গলমহল অঞ্চলে আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম মুখ ছিলেন উপেন্দ্র কিস্কু। কেন্দু পাতা সংগ্রহ ও বিক্রির ন্যায্য মূল্য, বিড়ি শিল্পে শ্রমিকদের অধিকার, আর্থিক নিরাপত্তা এই সব দাবিকে সামনে রেখে যে ঐতিহাসিক ‘কেন্দু পাতা আন্দোলন’ সংগঠিত হয়েছিল, তার নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এক সাধারণ প্রাথমিক শিক্ষক থেকে উঠে আসেন একজন জনপ্রিয় গণনেতা হিসেবে। আদিবাসী সমাজের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন উপেন্দ্র কিস্কু।
রাইপুরের অবিচ্ছেদ্য মুখ (Bankura Purulia Jhargram)
১৯৭৭ সালে প্রথমবার রাইপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন উপেন্দ্র কিস্কু। তারপর টানা আটবার ওই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন তিনি যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল নজির। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও রাইপুরে নিজের শক্ত ঘাঁটি অক্ষুণ্ণ রাখেন তিনি। প্রবল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিকটতম প্রতিপক্ষকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে আনেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণে অবদান (Bankura Purulia Jhargram)
১৯৮২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী। এই দীর্ঘ সময়ে রাজ্যের আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য নানা প্রকল্প রূপায়ণে অগ্রণী ভূমিকা নেন তিনি। তাঁর উদ্যোগেই জঙ্গলমহল অঞ্চলের বহু গ্রামে গড়ে ওঠে সরকারি স্কুল, আদিবাসী সমবায় সমিতি, এবং সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন কাঠামো। তিনি ছিলেন ‘আদিবাসী অধিকার মঞ্চ’ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা, যার মাধ্যমে সংগঠিতভাবে আদিবাসী স্বার্থরক্ষার লড়াই আরও মজবুত হয়।

আদর্শের কাছে আপসহীন (Bankura Purulia Jhargram)
দলের সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য নিজের সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন উপেন্দ্র কিস্কু। ক্ষমতা বা পদ নয়, সংগঠন ও আদর্শই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। ২০১৬ সালের পর সরাসরি সংসদীয় রাজনীতিতে না থাকলেও দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও আলগা হয়নি। শেষ দিন পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াত করতেন রাইপুরে সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ে। কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা, সংগঠন শক্ত করার পরামর্শ এই কাজেই কেটেছে তাঁর শেষ জীবনপর্ব।
আরও পড়ুন: Thailand Cambodia Border: থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সংঘাতে ভারতের উদ্বেগ
শেষ সময় ও প্রয়াণ
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বাড়িতে পড়ে গিয়ে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাঁকে বাঁকুড়ার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা কার্যালয়ে, যেখানে দলীয় কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।



