Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দোল পূর্ণিমা মানেই শান্তিনিকেতনের (Basant Utsav 2026) বসন্ত উৎসব-এক সময় এমনটাই ছিল বাঙালির চেনা ছবি। তবে গত কয়েক বছর ধরেই সেই ছবিতে বদলের আঁচ। সেই ধারাবাহিকতাতেই এ বারও দোলের দিন বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব হচ্ছে না। বুধবার শান্তিনিকেতনের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির কনফারেন্স হলে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ।
উপাচার্যের বক্তব্য (Basant Utsav 2026)
উপাচার্যের বক্তব্য, পরিস্থিতি এখনও অনুকূল (Basant Utsav 2026) নয়। মানুষের আচরণ ও মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে আগের মতো সর্বসাধারণের জন্য বসন্ত উৎসব আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য রক্ষা করতে গিয়ে চোখের সামনে প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতির মুখে পড়তে দিতে পারি না।” এই ঘোষণায় মতভেদ দেখা দিয়েছে। একদিকে আশ্রমিক ও প্রাক্তনীরা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও, অন্যদিকে পর্যটকদের একাংশের মন খারাপ। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, দোলের দিন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান না হলেও বোলপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রবীন্দ্রনাথের বসন্ত উৎসব পালিত হবে। অর্থাৎ উৎসবের আবহ থাকবে, তবে তার কেন্দ্র বদলাবে।

বিশ্বভারতীর অন্যতম ঐতিহ্য (Basant Utsav 2026)
প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বসন্ত উৎসব ছিল বিশ্বভারতীর অন্যতম ঐতিহ্য। দোল পূর্ণিমার দিন ভোরের বৈতালিক থেকে শুরু করে “ওরে গৃহবাসী” গান, শোভাযাত্রা, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নৃত্যনাট্যে মুখর হয়ে উঠত গোটা ক্যাম্পাস। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ এই উৎসব দেখতে ভিড় জমাতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ভিড়, অবাধ প্রবেশ এবং কিছু দর্শনার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণ কর্তৃপক্ষকে চিন্তায় ফেলেছে। ২০১৯ সালে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে বোলপুর শহর কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: Breaking Sexual Barriers: ১১ বছর হয়নি অর্গ্যাজম! কোন গোপন মন্ত্রে তরতরিয়ে সুখ ফিরল জীবনে?
২০২০ সালে কোভিডের কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হয়। তারপর থেকে বসন্ত উৎসব দোলের দিনে নয়, তার আগে বা পরে সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বভারতী ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ায় ক্যাম্পাসের স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ। তাই এ বছরও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতেই ঘরোয়া পরিবেশে বসন্ত উৎসব পালিত হবে-ঐতিহ্য বজায় থাকবে, তবে কড়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই।


