Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুজোর আর মাত্র ক’দিন বাকি। অনেকেই ভেবেছিলেন এ বছর ঘুরতে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা করবেন না (Belpahari)। কিন্তু উৎসব যত এগিয়ে আসছে, প্রকৃতির কোলে কিছুটা সময় কাটানো যেন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। তবে এই সময়ে ট্রেন বা বিমানের টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই সবচেয়ে সহজ উপায় হল নিজের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়া। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি হতে পারে এই পুজোয় প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর এক আদর্শ জায়গা।
কেন বেলপাহাড়ি? (Belpahari)
প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে বেলপাহাড়ি এক অনন্য গন্তব্য। শালের ঘন জঙ্গল, ছোট ছোট পাহাড়, ঝরনা, জলাধার আর খোলা সবুজ প্রান্তর সব মিলিয়ে মনকে শান্তি দেয়। বছর দশেক আগেও এখানে পর্যটকের আনাগোনা খুব কম ছিল। কিন্তু এখন বর্ষা কিংবা শীত, সারা বছরই ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমান এই সুন্দর জায়গাটিতে। দর্শনীয় স্থান কোনগুলো?
গাড়রাসিনী পাহাড় (Belpahari)
উত্তরবঙ্গে না গিয়েও পাহাড়ি স্বাদ পাওয়া যায় এখানে। জঙ্গলের মধ্যে অনুচ্চ এই পাহাড়ের সৌন্দর্য অপূর্ব। পাথুরে রাস্তা ভেঙে উঠতে হয় উপরে, আর সেখান থেকে চারপাশের বিস্তৃত সবুজ দিগন্ত একেবারে মন কাড়ে। পাহাড়ের গায়ে একটি মন্দিরও রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাঙ্গিকুসুম (Belpahari)
বেলপাহাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঢাঙ্গিকুসুম। আগে এখানে পৌঁছতে হলে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হতো। এখন পিচঢালা রাস্তা হয়ে যাওয়ায় যাতায়াত সহজ হয়েছে। দু’পাশে ঘন জঙ্গল, উঁচু-নিচু রাস্তা আর পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী সব মিলিয়ে জায়গাটি সত্যিই অসাধারণ।
ঘাঘরা ও তারাফেনি জলপ্রপাত (Belpahari)
বর্ষার সময়ে ঘাঘরা জলপ্রপাতের রূপ দেখলে চোখ ফেরানো দায়। তবে পুজোর সময়েও তার সৌন্দর্য আপনাকে নিরাশ করবে না। পাথরের চারপাশে জলের স্রোতে তৈরি হওয়া গর্তগুলি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এখান থেকে খুব কাছেই রয়েছে তারাফেনি জলাধার, যা বেলপাহাড়ি ভ্রমণকে আরও সম্পূর্ণ করে তোলে।
খ্যাঁদারানি হ্রদ (Belpahari)
শালের ঘন জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত এই হ্রদ বিকেলের আড্ডার জন্য এক অসাধারণ জায়গা। শান্ত হ্রদ আর সবুজ প্রান্তরের সংমিশ্রণে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। যারা নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাদের কাছে এটি হবে আদর্শ স্থান।
চাতন পাহাড়
শাল-পলাশের জঙ্গল, সাদা পাথর আর তিনটি আদিম গুহার জন্য বিখ্যাত চাতন পাহাড়। লালজল গ্রামের কাছে অবস্থিত এই পাহাড় প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দেবে। তাই বেলপাহাড়ি গেলে চাতন পাহাড় মিস করা একেবারেই চলবে না।
কীভাবে যাবেন? (Belpahari)
- কলকাতা থেকে দূরত্ব: প্রায় ২০০ কিলোমিটার।
- ট্রেনে গেলে: ঝাড়গ্রাম স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন ধরতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে সহজেই ঘুরে দেখা যায় বেলপাহাড়ির সব দর্শনীয় স্থান।
- গাড়ি নিয়ে গেলে: জাতীয় সড়ক ধরে সোজা চলে আসতে পারেন। রাস্তাঘাট ভালো এবং ড্রাইভও মনোরম।
আরও পড়ুন: Travel: বিশ্বের সুন্দর পাঁচ সমুদ্রসৈকত কী কী জানা আছে?
কোথায় থাকবেন?
বেলপাহাড়ি এবং আশেপাশের এলাকায় বেশ কিছু থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রিসর্ট, গেস্ট হাউস কিংবা হোমস্টে যেকোনও অপশন বেছে নিতে পারেন। স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা এবং গ্রামীণ পরিবেশ আপনার ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে। আরও যে জায়গাগুলো যেতে পারেন যদি হাতে আরও কিছুটা সময় থাকে, তবে বেলপাহাড়ি থেকে ঘুরে নিতে পারেন…
- কাঁকড়াঝোর
- তালবেড়িয়া জলাধার
- মকুটমণিপুর



