Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কথায় বলে ‘মাছে-ভাতে’ বাঙালি। বাংলার রাজনীতিতে চিরকালই ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাস (Bengal Election 2026)। ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাঙালির প্রিয় ‘মাছ-ভাত’। বিজেপিকে ‘বাঙালি বিরোধী’ এবং ‘নিরামিষাশী দল’ হিসেবে চিহ্নিত করতে শাসকদল তৃণমূল যখন সরব, ঠিক তখনই পাল্টায় দ্বিমুখী কৌশল নিল বঙ্গ-বিজেপি। বাঙালির পাতে মাছ-মাংস বজায় থাকবে, এই বার্তা দিতেই এখন মাছবাজারে জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের হেভিওয়েট প্রার্থীরা।

বিজেপির ‘মৎস্যপ্রেমী’ ভাবমূর্তি (Bengal Election 2026)
তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হচ্ছে যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলে দেবে এবং মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হবে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ৩০ মার্চ পাঁশকুড়ার সভা থেকে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব এখন মুখে তর্কের চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাস দেখাচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের পরামর্শে প্রার্থীরা নিজেদের ‘মৎস্যপ্রেমী’ ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন।
আরও পড়ুন: Artemis 2 Food: মহাকাশে রাজকীয় ভোজ, কী খাচ্ছেন নভোচারীরা?
এই কৌশলের অগ্রভাগে রয়েছেন মেদিনীপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। আরএসএস-এর প্রাক্তন প্রচারক হওয়া সত্ত্বেও দিলীপ বারবার জানিয়েছেন তাঁর ছোট মাছ ও পান্তাভাতের প্রতি অনুরাগের কথা। সম্প্রতি খড়্গপুরের খড়িদা মাছবাজারে তাঁকে বিক্রেতাদের সঙ্গে গল্প করতে এবং মাছের দরদাম করতে দেখা গিয়েছে। একই ছবি ধরা পড়েছে বিধাননগরের প্রার্থী চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। হাতে পেল্লাই সাইজের কাতলা মাছ নিয়ে সল্টলেকের রাস্তায় তাঁর প্রচারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলেছে।

পিছিয়ে নেই রাজারহাট-গোপালপুরের প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। তিনি সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, “তৃণমূল নেতারা টাটকা ও চালানি মাছের তফাত বোঝেন না, যা আমি পারি।” অন্যদিকে, বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ এবং মেদিনীপুর বিধানসভার শঙ্কর গুছাইতকেও দেখা গিয়েছে মাছ খেতে খেতে সাক্ষাৎকার দিতে বা মাছের বঁটির সামনে বসে ছবি তুলতে।
তৃণমূলের কটাক্ষ (Bengal Election 2026)
বিজেপির এই ‘মৎস্যপ্রেম’কে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার হাসিমুখে বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্ট’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বাঙালির রোষ থেকে বাঁচতেই এখন বিজেপিকে হাতে মাছ নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Donald Trump: ইরানে ট্রেনে উঠতে বারণ, বড় হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে ইজরায়েল
তবে বিজেপির এই কৌশল মূলত কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলিতেই বেশি সীমাবদ্ধ। দলের একাংশের মতে, রাঢ়বঙ্গ বা গ্রামীণ এলাকায় সেচের জল বা ফসলের দাম বড় ইস্যু হলেও, শহুরে বাঙালির কাছে ‘বাঙালিয়ানা’ প্রমাণের লড়াইয়ে মাছ-ভাত এখন অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন এ দেশে মা কালী পাঁঠা খাবে, তাই বাঙালিও খাবে। কেউ আটকাতে পারবে না।” সব মিলিয়ে, ভোটের গরমে বাংলার রাজনৈতিক লড়াই এখন উন্নয়ন ছাপিয়ে বাঙালির রান্নাঘরে গিয়ে ঢুকেছে।



