Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া (SIR) শুরু হওয়ার আবহে রাজ্যে ফের আত্মহত্যার ঘটনা। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকা থেকে এক প্রৌঢ়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার (Bhangar Death)। পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, এসআইআর-এর আতঙ্ক থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
মৃত ওই প্রৌঢ়ের নাম সফিকুল গাজি, যিনি মূলত উত্তর ২৪ পরগনার ঘুসিঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি কিছু দিন ধরে ভাঙড়ের জয়পুরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন। জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে একটি দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর জখম হয়েছিলেন এবং তারপর থেকে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন (Bhangar Death)। তাঁর কাছে পরিচয়পত্র না থাকার কারণে তিনি এমনিতেই উদ্বেগে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তাঁর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
আরও পড়ুন: Double Voter ID: বিজেপির বিএলএ নিজেই ‘ভুতুড়ে’ ভোটার! তালিকায় দু’বার নাম, দুটি ভিন্ন এপিক নম্বর
সফিকুল গাজির স্ত্রী ঘটনার বিষয়ে বলতে গিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আত্মহত্যার জন্য এসআইআর-এর আতঙ্ককেই দায়ী করেন। বলেন, ‘এসআইআর নিয়ে আতঙ্কে ছিল। খালি বলত, ‘আমার তো পরিচয়পত্র নেই। আমাকে তাড়িয়ে দেবে।’ অসুস্থও হয়ে পড়েছিল। সকালে আমি চা দিয়ে ছাগল বাঁধতে গিয়েছিল। সেই সময় গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’
পাশে তৃণমূল (Bhangar Death)
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা দ্রুত মৃতের বাড়িতে যান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন (Bhangar Death)। বিধায়ক জানান, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তিনি এসেছেন এবং পরিবারকে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ (Bhangar Death)
অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “রাজ্যে যেখানেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, সেখানেই এসআইআর-এর আতঙ্ককে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ক্যানসার বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলেও বলা হবে এসআইআর আতঙ্ক।” তাঁর অভিযোগ, এটি তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল।
যদিও এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। কারণ, এর আগের দিনই জোড়াসাঁকোর সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছিলেন, কারও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং রাজ্য সরকার ও তৃণমূল দল সব রকম সহযোগিতা করবে (Bhangar Death)। কিন্তু সেই আশ্বাসের পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।


