Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিহারের সংশোধিত ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের আগেই তা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং উত্তেজনা(Bihar Assembly Election 2025)। শুক্রবার দুপুর ৩টেয় তালিকাটি প্রকাশ করা হবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। তবে তার আগেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের হাতে তালিকাটি তুলে দেওয়া হয়েছে ৩৮ জেলার ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে। এরই মধ্যে এই তালিকা প্রকাশ এবং সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদের উভয় কক্ষে শোরগোল তুলেছেন বিরোধী দলগুলি।
বিড়লাকে যৌথ চিঠি বিরোধীদের (Bihar Assembly Election 2025)
ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে এমন সংশোধনীকে ‘অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে যৌথ চিঠি দিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী), এনসিপি (শরদ গোষ্ঠী), আরজেডি-সহ একাধিক বিরোধী দল(Bihar Assembly Election 2025)। চিঠিতে বলা হয়েছে, “বিহারের ভোটার তালিকার এই হঠাৎ সংশোধনে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।”
সড়া তালিকা প্রকাশ (Bihar Assembly Election 2025)
কমিশনের (Election Commission of India) তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ৯০,৮১৭টি বুথের তথ্য এই তালিকায় রয়েছে (Bihar Assembly Election 2025)। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম বাদ বা সংযুক্ত করার জন্য আবেদন জানানো যাবে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা,এই সংশোধনের অন্তরালে রয়েছে পরিচয়ভিত্তিক যাচাই এবং ভবিষ্যতে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC)-র মতো পদক্ষেপের প্রস্তুতি।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর (Systematic Identification and Registration)-কে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে বিজেপি। পরিচয় যাচাইয়ের নামে বিভাজনমূলক রাজনীতি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটের মাঠে দাঁড়িয়ে এভাবেই ‘নীরব ও অদৃশ্য কারচুপি’র মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায় বিজেপি।”

আরও পড়ুন: Mayanmar Cricis : মায়ানমারে ভোটের ঘোষণা, উঠবে জরুরি অবস্থা! পিছু হটছে সামরিক জুন্টা?
কোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নয় (Bihar Assembly Election 2025)
এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তালিকার প্রকাশ কোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর অংশ(Bihar Assembly Election 2025)। সকল নাগরিক এই তালিকা দেখে ভুল-ত্রুটি জানাতে পারেন, এবং সেগুলি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
তবে বিরোধীদের প্রধান আপত্তি তালিকার যাচাই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত নথি নিয়ে। অভিযোগ, সহজলভ্য নথি যেমন ভোটার কার্ড, আধার বা রেশন কার্ড গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে বহু সাধারণ নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
কেন এই সিদ্ধান্ত? (Bihar Assembly Election 2025)
এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে এই সংশোধনী কোনও নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করার জন্য কি? বিহারে অক্টোবর-নভেম্বরে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগেই তালিকা সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত কার্যত নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।


