Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিহারের জেহানাবাদে একটি গুরুকুল হস্টেলে পাঁচ বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Bihar Crime)। অভিযোগ, হস্টেলে ভর্তি হওয়ার মাত্র ছ’দিনের মাথায় যৌন নির্যাতনের পর নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে ওই শিশুকে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই হস্টেলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ এপ্রিল পাটনা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে জেহানাবাদের একটি গুরুকুল হস্টেলে ছেলেকে ভর্তি করে যান তার বাবা–মা। নতুন পরিবেশে পড়াশোনার জন্য ছেলেকে রেখে আসার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই এমন ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।
রহস্যজনক অসুস্থতা থেকে মৃত্যুর খবর (Bihar Crime)
অভিযোগ, ৬ এপ্রিল বিকেল প্রায় ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ হস্টেল কর্তৃপক্ষের তরফে ফোন করে জানানো হয়, শিশুটি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছন শিশুটির বাবা–মা। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে শিউরে ওঠে শিশুটির পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, আইসিইউ–তে ভর্তি অবস্থায় শিশুটির শরীরে ছিল একাধিক গভীর ক্ষতচিহ্ন। গলায় কাটা দাগ, তলপেটের বাঁদিকে আঘাত, ভ্রূ–র নীচে ও চোয়ালে কোপের চিহ্ন—শরীরের প্রায় সর্বত্রই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, শিশুটির যৌনাঙ্গও মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত ছিল।
শরীরে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন (Bihar Crime)
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও যৌন নিগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যায়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিশুটিকে পাটনার একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত শিশুটির দাদা, যিনি একই হস্টেলের অন্য ফ্লোরে থাকতেন, জানিয়েছেন—ঘটনার আগের দিন রাতে হস্টেলের প্রিন্সিপাল তথা ডিরেক্টর তরুণ কুমার ওই শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। এরপরই ঘটনার মোড় আরও ঘনীভূত হয়।
সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে হস্টেল কর্তৃপক্ষ (Bihar Crime)
পরিবারের তরফে থানায় দায়ের করা এফআইআর–এ স্পষ্টভাবে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় শুধু একজন নয়, আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে এবং পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিশুটির দেহ নিয়ে হস্টেলের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে পাটনা–গয়া ন্যাশনাল হাইওয়ে–২২ অবরোধ করা হয়।
আরও পড়ুন: Matua: শাহকে রুটি-পায়েস খাইয়েও স্বপ্নভঙ্গ! সেই নবীন বিশ্বাসই এবার তৃণমূলের মিছিলে

গণধর্ষণ ও পরিকল্পিত খুন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের হস্তক্ষেপে অবশেষে অবরোধ তোলা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, অনির্দিষ্টকালের জন্য সিল করে দেওয়া হয়েছে ওই গুরুকুল হস্টেল। পুলিশ ইতিমধ্যেই হস্টেলের প্রিন্সিপাল তরুণ কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও এক শিক্ষক ও দুই কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীদেরও জেরা চলছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে।



